লাইভ
বাণিজ্য৯ ঘণ্টা আগে

সৌদি-কাতার নিয়ে নীরবতা, মালয়েশিয়া নিয়েই এত ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক কেন: ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদকের বিশ্লেষণ

ভেরিক্সা নিউজভেরিক্সা নিউজ, সম্পাদকীয় ডেস্কপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

দীর্ঘ বিরতির পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় চালুর পথে এগোলেও নতুন নিয়োগ কাঠামো ঘিরে আবারও ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক সামনে এসেছে। ভেরিক্সা নিউজের সম্পাদক মনে করেন, মালয়েশিয়ার নির্ধারিত agency-selection ব্যবস্থাকে শুধু ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে তুলে ধরার বদলে অভিবাসন ব্যয়, স্বচ্ছতা, কর্মীর চাকরি নিশ্চিতকরণ ও অধিকারকে আলোচনার কেন্দ্রে আনা জরুরি। একই সঙ্গে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরিশাসের শ্রমবাজারে থাকা সমস্যা নিয়েও সমান গুরুত্বে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সৌদি-কাতার নিয়ে নীরবতা, মালয়েশিয়া নিয়েই এত ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক কেন: ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদকের বিশ্লেষণ
শেয়ার করুন

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য মালয়েশিয়াকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক। নতুন ব্যবস্থায় কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করবে, কেন নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে এবং এই ব্যবস্থায় কর্মীদের খরচ কত হবে—এসব প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক মহল, জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমে চলছে আলোচনা।

কিন্তু ভেরিক্সা নিউজের সম্পাদকের প্রশ্ন হলো—শুধু মালয়েশিয়াকেই কেন এত বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে? সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা দুবাই এবং মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়, আকামা বা বৈধতা, বেতন, চাকরির নিশ্চয়তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে একই মাত্রায় ধারাবাহিক আলোচনা কোথায়?

এটি কোনো অনিয়ম আড়াল করার আহ্বান নয়। বরং যেখানেই দুর্নীতি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, প্রতারণা বা শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন হবে, সেখানেই প্রশ্ন তুলতে হবে। তবে সেই প্রশ্ন হতে হবে সব শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে সমানভাবে।

### তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকের পর নতুন গতি

২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার বাজার কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২২ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে পুত্রজায়ায় বৈঠক করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়া, আরও কর্মী নেওয়া, অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতা এবং শ্রমিক নিয়োগকে স্বচ্ছ ও কম খরচের করার বিষয় গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া পুনরায় কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “যে বাজারটি বন্ধ বা সীমিত থাকার কারণে হাজার হাজার কর্মীর সুযোগ কমে গিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালু করার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এত বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হয়েছে। ফলে আমরা এমন কোনো বক্তব্য বা প্রচারণা করতে পারি না, যার শেষ ফল দাঁড়ায় আবার পুরো বাজারটাই ঝুঁকিতে পড়া।”

### FWCMS কী

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় Foreign Workers Centralised Management System বা FWCMS ব্যবহার করা হয়।

Bestinet পরিচালিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে recruiting agency, medical examination, eRecruitment, eEmbassy এবং বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপকে সমন্বিত করা হয়।

তবে কে কর্মী নেবে, কোন দেশ থেকে কত কর্মী নেওয়া হবে, কোন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হবে এবং অভিবাসন নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “Bestinet একটি system provider। মূল policy decision মালয়েশিয়া সরকারের। কাজেই কোন agency তাদের system-এ থাকবে—সেটাকে বিশ্লেষণ করতে হলে receiver country-এর policy-ও বিবেচনায় নিতে হবে।”

### ২৫ মূল agency, সঙ্গে ৩১২ associate

মালয়েশিয়ার FWCMS প্রথমে বাংলাদেশের ২৫টি private recruiting agency-কে principal agency হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

পরবর্তীতে আরও ৩১২টি বাংলাদেশি recruiting agency-কে associate agency হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান BOESL-ও এই ব্যবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এতে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি recruiting agency বা প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ পাচ্ছে।

FWCMS-এর বর্তমান structure-এ ২৫টি private principal agency-এর অধীনে মোট ২৫০টি affiliate agency এবং BOESL-এর অধীনে আরও ৬২টি affiliate agency দেখা যায়।

অর্থাৎ কাঠামোটি কেবল ২৫টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়।

### শুধু বাংলাদেশের জন্য এমন ব্যবস্থা নয়

মালয়েশিয়ার agency listing শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়।

FWCMS-এর source-country agency listing অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে ২৫টি করে principal agency, কম্বোডিয়া থেকে ২৩টি, ভারত ও মিয়ানমার থেকে ১০টি করে, পাকিস্তান থেকে ১০টি, ফিলিপাইন থেকে ৪৩৫টি, শ্রীলঙ্কা থেকে ২৫৮টি, থাইল্যান্ড থেকে একটি এবং ভিয়েতনাম থেকে ৯১টি recruiting agency তালিকাভুক্ত হয়েছে।

অর্থাৎ দেশভেদে agency সংখ্যা ভিন্ন।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “আমি এই কারণেই এটাকে শুধু ‘সিন্ডিকেট’ শব্দে ব্যাখ্যা করতে চাই না। আমার কাছে এটাকে selective বা controlled recruitment structure বলা বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে selection যেন স্বচ্ছ হয়, প্রতিযোগিতা ন্যায্য হয় এবং কর্মীর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা না পড়ে—এই জায়গায় কঠোর নজরদারি অবশ্যই প্রয়োজন।”

‘Selective’ শব্দটি এখানে সম্পাদকের বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা; এটি মালয়েশিয়া সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিভাষা নয়।

### মেডিকেল ব্যবস্থাও FWCMS-এর আওতায়

Malaysia-bound কর্মীদের Bio-Medical health examination-ও FWCMS-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

FWCMS-এর public affiliate list সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশ্য তালিকা পর্যালোচনায় বাংলাদেশের ৩৫টি accredited medical centre দেখা যাচ্ছে।

FWCMS বলছে, Bio-Medical পরীক্ষা eVDR application-এর আগে বাধ্যতামূলক এবং তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় audit process-এর আওতায় থাকে।

ফলে agency selection-এর পাশাপাশি medical screening-ও receiver-country নির্ধারিত digital framework-এর অংশ।

### Sender country আর receiver country-এর বাস্তবতা

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “বাংলাদেশ এখানে sender country—আমরা কর্মী পাঠাব। মালয়েশিয়া receiver country—তারা কর্মী গ্রহণ করবে। ফলে তাদের immigration, employment এবং recruitment policy-এর একটি বড় অংশ আমাদের মেনে চলতেই হবে।”

তার ভাষায়, বাংলাদেশ অবশ্যই দরকষাকষি করবে, বেশি agency অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করবে, migration cost কমাতে বলবে এবং বৈষম্যমূলক কোনো ব্যবস্থা থাকলে পরিবর্তনের দাবি জানাবে।

“কিন্তু receiver country যদি তাদের নিজস্ব policy অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাঠামোতে recruitment করতে চায়, তখন বাংলাদেশ একতরফাভাবে সেই policy বাতিল করতে পারে না। আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হয়,” বলেন তিনি।

### সৌদিতে সরকারি সীমার চেয়ে বেশি খরচের অভিযোগ বহু দিনের

মালয়েশিয়াকে ঘিরে অতিরিক্ত migration cost নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটি অবশ্যই গুরুত্বের। তবে একই প্রশ্ন সৌদি আরবসহ অন্য বাজার নিয়েও করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক।

বাংলাদেশে সৌদি আরবগামী একজন কর্মীর জন্য সরকার নির্ধারিত migration cost ceiling দীর্ঘদিন ধরে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে উল্লেখ হয়ে আসছে।

কিন্তু বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাস্তবে কর্মীদের এর কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা, এমনকি এর চেয়েও বেশি ব্যয়ের উদাহরণ উঠে এসেছে।

২০২৬ সালেও সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের চাকরি না পাওয়া, বেতন সমস্যা এবং সময়মতো আকামা না পাওয়ার অভিযোগ সংবাদে এসেছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ চলতি বছর আকামা নবায়নের নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে—পুরনো sponsor নবায়ন না করলে নতুন employer-এর মাধ্যমে আকামা নবায়নের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “আমার প্রশ্ন হচ্ছে—একজন শ্রমিক যদি সৌদিতে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে যান, গিয়ে আকামা না পান, প্রতিশ্রুত চাকরি না পান বা বেতন নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে সেটাও তো সমানভাবে বড় ইস্যু।”

### কাতার নিয়েও একই প্রশ্ন

কাতার বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “কাতারেও যদি worker recruitment cost, contract, salary বা employer-related সমস্যা থাকে, সেটাও আমাদের সামনে আনতে হবে। মালয়েশিয়া নিয়ে প্রতিদিন কথা বলব, কিন্তু কাতার নিয়ে কোনো worker অভিযোগ এলে গুরুত্ব দেব না—এই নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

তিনি বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনায় দেশভিত্তিক আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নয়, একই নীতি প্রয়োজন।

### দুবাই-ইউএইতে ভিসা জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের আরেকটি বড় কর্মসংস্থানের গন্তব্য।

২০২৬ সালেও UAE-তে বাংলাদেশিদের visa cancellation ও renewal সমস্যার খবর সামনে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ৬২৬ বাংলাদেশির visa cancellation-এর তথ্য পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু case renewal-এর জন্য UAE কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু প্রবাসী দেশে ফিরে পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “দুবাই বা UAE নিয়ে যখন আমাদের প্রবাসীরা মাসের পর মাস সমস্যায় থাকেন, সেটাও জাতীয় আলোচনায় একই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।”

### মরিশাসেও নিয়োগ কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার

মরিশাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ বা centralised করা শুধু মালয়েশিয়ার বিষয় নয়।

মরিশাস সরকার ২০২৬ সালের জুনে জানিয়েছে, দেশটিতে তখন ৮ হাজার ৯৭৫ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছিলেন।

অবৈধ recruitment ঠেকাতে Mauritius ও Bangladesh সরকার এমন একটি Government-to-Government framework তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট খাতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের একটি central recruitment body-এর মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ এখানেও host country recruitment mechanism নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

এর আগেও মরিশাসে উচ্চ recruitment fee এবং শ্রমিক অধিকারের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় উদ্বেগ উঠে এসেছে।

### ফখরুল ইসলামের প্রতিও প্রশ্ন

Human Resource Development Center, RL No. 452-এর Managing Partner Mohammed Fakhrul Islam BAIRA-এর একজন নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, “ফখরুল ভাইসহ BAIRA-এর যেসব দায়িত্বশীল ব্যক্তি মালয়েশিয়ার recruitment structure নিয়ে কঠোরভাবে কথা বলেন, তাদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ অধিকার আছে। আমি শুধু তাদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই—সৌদি আরবের অতিরিক্ত migration cost, আকামা, বেতন এবং job mismatch নিয়ে একই তীব্রতায় কেন নিয়মিত কথা শুনি না?”

তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্য বা আর্থিক স্বার্থ সম্পর্কে অভিযোগ নয়।

“কারও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে policy consistency নিয়ে—আপনি যখন প্রবাসীর স্বার্থের কথা বলবেন, তখন Malaysia, Saudi Arabia, Qatar, UAE, Mauritius—সব বাজারের শ্রমিকের জন্য একইভাবে কথা বলুন।”

### ‘সিন্ডিকেটে ঢুকতে না পারার ক্ষোভ’—প্রমাণ ছাড়া বলা যাবে না

সম্পাদক বলেন, জনশক্তি খাতে একটি পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে এবং কখনো কখনো একে অপরের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ব্যবহার করার কথাও শোনা যায়।

তবে এ ধরনের অভিযোগ documentary evidence ছাড়া সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

“কারও সম্পর্কে আমি বলতে পারি না যে তিনি তালিকায় ঢুকতে পারেননি বলেই এখন বিরোধিতা করছেন—এর জন্য প্রমাণ লাগবে। কিন্তু এমন প্রশ্ন কেন তৈরি হচ্ছে, সেই পরিবেশটা sector-এর সবাইকে চিন্তা করতে হবে।”

### আসল লড়াই হওয়া উচিত কম খরচের জন্য

ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদকের মতে, মালয়েশিয়ায় ২৫ principal agency থাকবে, ১০০ থাকবে নাকি সব licensed agency কাজ করবে—এই বিতর্কের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত একজন বাংলাদেশি কর্মী শেষ পর্যন্ত কত টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমার দাবি খুব সহজ। যেই agency দিয়েই কর্মী যাক, খরচ যেন কম হয়। worker যেন ঋণগ্রস্ত হয়ে না যায়। মালয়েশিয়া গিয়ে যেন সত্যিকারের চাকরি পায়। salary, accommodation এবং employer আগে থেকেই verified থাকে।”

তার মতে, যদি ৩৩৮টি agency সুযোগ পায় কিন্তু খরচ আবারও অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তাহলে সেই ব্যবস্থারও সমালোচনা করতে হবে।

একইভাবে, agency সংখ্যা সীমিত হলেও যদি স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা, কম খরচ ও কর্মীর অধিকার নিশ্চিত না হয়, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

### শ্রমবাজার হারানোর মতো প্রচারণা নয়

সম্পাদক মনে করেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে প্রশ্ন করা, কিন্তু সেই প্রশ্ন হতে হবে তথ্যভিত্তিক এবং balanced।

“আমরা এমন headline করতে পারি না যাতে মনে হয় Malaysia সরকার বাংলাদেশকে ঠকানোর জন্যই সবকিছু করছে—যদি তার পক্ষে তথ্য না থাকে। আবার অনিয়ম থাকলে সেটাও চেপে রাখা যাবে না।”

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি কর্মসংস্থান বাজার নয়; এটি রেমিট্যান্স, পরিবারগুলোর আয় এবং হাজার হাজার তরুণের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত।

“আমাদের বক্তব্যের কারণে যদি bilateral trust ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়, তার সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে সেই মানুষটি, যে জমি বিক্রি করে বা ঋণ করে বিদেশ যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।”

### সমালোচনা হোক, কিন্তু লক্ষ্য থাকুক শ্রমিকের স্বার্থ

সবশেষে ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদক বলেন, মালয়েশিয়ার system নিয়ে প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে।

Agency selection কীভাবে হলো, স্বচ্ছতা আছে কি না, worker-এর খরচ কত, hidden charge আছে কি না, employer সত্যি কি না—এসব বিষয়ে সাংবাদিকতা আরও শক্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে একই মানদণ্ড সৌদি আরব, কাতার, UAE, মরিশাসসহ সব labour market-এর ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধ কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, কোনো agency-এর পক্ষেও নয়। আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষে। বাজার যেন খোলা থাকে, খরচ কমে, কর্মী প্রতারিত না হয় এবং বিদেশে গিয়ে তার ন্যায্য অধিকার পায়—আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত এটিই।”

সৌদি-কাতার নিয়ে নীরবতা, মালয়েশিয়া নিয়েই এত ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক কেন: ভেরিক্সা নিউজ সম্পাদকের বিশ্লেষণ
শেয়ার করুন

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন

সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।

ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।

সম্পর্কিত খবর

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে নতুন ধাপ: ১৬ সেপ্টেম্বর FWCMS গো-লাইভ, ১৮ থেকে অপারেশন শুরুর সূচি
বাণিজ্য
শীর্ষে

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে নতুন ধাপ: ১৬ সেপ্টেম্বর FWCMS গো-লাইভ, ১৮ থেকে অপারেশন শুরুর সূচি

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটাল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নিতে FWCMS-এর নতুন বাস্তবায়ন সূচি সামনে এসেছে। Bestinet-branded timeline অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর eEmbassy, eRecruitment ও BioMedical সিস্টেম Go-Live হওয়ার কথা, আর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অপারেশন শুরু হওয়ার সূচি রয়েছে। এদিকে FWCMS-এর বর্তমান তালিকায় বাংলাদেশের ১৫টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার এবং মূল ও সহযোগী মিলিয়ে মোট ৩৩৮টি recruiting agency entry রয়েছে।

২ দিন আগে

ফেডের সুদ শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, কমেছে রুপা-প্ল্যাটিনামও
বাণিজ্য

ফেডের সুদ শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, কমেছে রুপা-প্ল্যাটিনামও

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পট গোল্ড ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

৪ দিন আগে

কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
বাণিজ্য

কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশের কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নিরাপদ কাঁচামাল ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে এই খাত ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

১২ দিন আগে

শাহজালালে এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২ বিমান এবার ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ
বাণিজ্য

শাহজালালে এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২ বিমান এবার ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করার পর এবার আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলো কার্যত স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকা দখল করে রেখেছে।

১৮ দিন আগে

রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি
বাণিজ্য

রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিসিবি ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কেনার পরিকল্পনাও করেছে।

২৮ দিন আগে

শপিং মল ও দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
বাণিজ্য

শপিং মল ও দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

দেশের সব শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে এবং মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

৩৩ দিন আগে

ভেরিক্সা নিউজ
এই মুহূর্তে ০ জন