রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ এএম
আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিসিবি ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কেনার পরিকল্পনাও করেছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৯:৫৯ এএম
আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রমজান মাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুরের চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগও প্রায়ই ওঠে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আগেভাগেই পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা এবং বাজার তদারকি আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হবে।
অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামী রমজান উপলক্ষে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা করেছে।
এ বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
জানা গেছে, আগামী রমজানে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির।
বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮টি কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী রমজানের মধ্যে সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা ৮৫ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
এসব কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি করে ছোলা বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি ১৩ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি করে খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এক কেজি করে ছোলা এবং আধা কেজি করে খেজুর বিক্রি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর রমজানের আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও অনেক সময় রমজান ঘিরে দাম বেড়ে যায়, যার চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারমূল্য সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি জানিয়েছেন, রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সরবরাহ সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ফলে আগামী রমজানে পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ টন ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় প্রায় পাঁচ লাখ টন।
মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন। এর মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮০ হাজার টন। স্থানীয়ভাবে মসুর ডালের উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন।
দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন, আর রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় তিন লাখ টন।
ছোলার বার্ষিক চাহিদা সর্বোচ্চ দুই লাখ টন, যার বড় অংশই রমজান মাসে প্রয়োজন হয়। খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। এর মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
তার মতে, শুধু প্রস্তুতির ঘোষণা নয়, আমদানি ও মজুতকৃত পণ্যের সঠিক তথ্য পর্যবেক্ষণ, সারাদেশে নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চাহিদা ও জোগানের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।





