শাহজালালে এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২ বিমান এবার ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ পিএম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করার পর এবার আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলো কার্যত স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকা দখল করে রেখেছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৯:৫৪ পিএম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করার পর এবার সেগুলো আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
দীর্ঘদিন খোলা পরিবেশে পড়ে থাকায় এসব উড়োজাহাজের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক অংশে মরিচা ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এগুলো এখন আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়; কার্যত স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবেই বিক্রিযোগ্য।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজের মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে।
এসব উড়োজাহাজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।
এই অ্যাপ্রোন বিমানবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এলাকার একটি। এখান থেকেই কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা, উড়োজাহাজ পার্কিং এবং পণ্য ওঠানামার কাজ সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ পড়ে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিং, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা এবং কার্গো পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় উড়োজাহাজগুলো বিক্রি করে অ্যাপ্রোন এলাকা খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলাম আয়োজনের অনুমোদন চান।
তবে উড়োজাহাজগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা নিয়েই বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বেবিচকের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসব উড়োজাহাজের মূল্য নির্ধারণ করতে যে ব্যয় হবে, সম্ভাব্য বিক্রি থেকে সেই অর্থ উঠে আসবে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
এ কারণে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ না করে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছিল।
তবে দেশে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিত্যক্ত উড়োজাহাজের মূল্যায়ন করতে সক্ষম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বেবিচক।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও সে ক্ষেত্রে মূল্যায়ন ব্যয় সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
নিবন্ধন বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
পরে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজ সরানো না হলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করা হবে।
এরপর বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, বন্ধক গ্রহণকারী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক।
এরপর জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২টি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
তার ভাষ্য, এগুলো ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজগুলোর মূল্য নির্ধারণেই যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বাস্তবে এগুলো এখন স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।
বেবিচকের ধারণা, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলকভাবে অংশ নিতে পারবে।
এতে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একই সঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন এলাকা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজমুক্ত হলে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা এবং কার্গো কার্যক্রম আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিমান খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কাম্য নয়।
দ্রুত উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে ফেলতে পারলে বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে, কার্গো কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
ফটো গ্যালারি

- #শাহজালাল বিমানবন্দর
- #বেবিচক
- #পরিত্যক্ত বিমান
- #বিমান নিলাম
- #ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ
- #রিজেন্ট এয়ারওয়েজ
- #জিএমজি এয়ারলাইন্স
- #কার্গো অ্যাপ্রোন
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।





