ভালুকায় গ্যাস সংকটে ২০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ এএম
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটে অন্তত ২০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বহু কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৬:০৫ এএম
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটে অন্তত ২০টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
কারখানাগুলোর শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের চাপ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভালুকা গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে কিছুটা চাপ থাকলেও দূরের কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কমে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন জানান, ২০ আগস্ট সকাল থেকে ভালুকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলেও গ্যাসের অভাবে দুপুর ১২টার মধ্যে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, অন্যান্য কারখানাতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভালুকা শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসচালিত। বর্তমানে এসব কারখানাই কমবেশি গ্যাস সংকটের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
উৎপাদন সচল রাখতে অনেক কারখানা জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিকভাবে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। তবে এতে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম হচ্ছে।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো।
শিল্প পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, ভালুকা-গৌরীপুরের টোয়েটা স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। মাত্র সাতটি মেশিন পিডিবির বিদ্যুৎ দিয়ে সচল রাখা হয়েছে।
ভালুকার ভরাডোবা এলাকার সীমা স্পিনিং মিলসে গ্যাস সংকটের কারণে ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে কারখানাটির সামগ্রিক উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি কমেছে।
অন্যদিকে, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন বন্ধ রয়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে, কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময়ই অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান।
তিনি জানান, তিতাস কর্তৃপক্ষ বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছিল।
ভরাডোবা গোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে তাদের কারখানায় গ্যাসের চাপ কম।
কারখানাটিতে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ১১ থেকে ১২ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে গেছে বলে তিনি জানান।
গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ১৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
তবে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস।
তিনি বলেন, সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের চাপও কমে গেছে এবং এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের উদ্যোক্তারা দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন আরও কমবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






