এস আলম ও চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ পিএম
এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জমা দেওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: রাত ১১:০৯ মিনিট
ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। এ ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, দুদকে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জমা দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তার দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই ওই কর্মকর্তা নিজের উদ্যোগে দুদকে অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন। এ কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জহির হোসেন আরও বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন তথ্যটি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
পরদিন ২৭ জুলাই জারি করা একটি চিঠিতে শাখার ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে ইয়াসীন আলীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয় বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোমবার ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ইসলামী ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। ওই তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই দুদকে অভিযোগ করা হয়।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরে ওই ঋণের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যাংক।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন।
ওই সময়ই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল বলে দুদকে জমা দেওয়া ব্যাংকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #ইসলামী ব্যাংক
- #মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী
- #এস আলম
- #সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
- #দুদক
- #ব্যাংক ঋণ
- #অর্থ আত্মসাৎ
- #বাংলাদেশ ব্যাংক
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






