আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির জন্য ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগপদ্ধতি, ব্যয়, মেডিকেল ও সাধারণ কর্মীদের জন্য পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনো আলাদা সরকারি ঘোষণা আসেনি।

ভেরিক্সা নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার বিপরীতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাস্তব নিয়োগপ্রক্রিয়া দৃশ্যমান হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর চাহিদাপত্রটি সত্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
### ঘোষণা নেই, কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বাংলাদেশ কিংবা মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর কোনো আলাদা পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কিন্তু একজন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নের মধ্য দিয়ে নিয়োগের বাস্তব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্ধারিত ব্যবস্থায় বিদেশি কর্মীর demand letter attestation-এর জন্য নিয়োগকর্তাকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, কোম্পানির কাগজপত্র, কর্মসংস্থান চুক্তি ও অন্যান্য নথি জমা দিতে হয়।
ফলে ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের বিষয়টি শুধু আলোচনা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাস্তব নিয়োগপ্রক্রিয়ার একটি কার্যকর ধাপ। :chatgpt-content-reference{index="2"}
### এনএসকে ট্রেড সিটির জন্য ২৮ বাংলাদেশি
নতুন নিয়োগের প্রথম প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার এনএসকে ট্রেড সিটির জন্য ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া হবে।
এ কর্মীদের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের নাম এসেছে।
চাহিদাপত্র সত্যায়নের পর এখন কর্মী নির্বাচন, মেডিকেল, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা।
তবে কোন সময়ের মধ্যে এসব ২৮ কর্মী মালয়েশিয়ায় পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি।
### দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন অধ্যায়
২০২৪ সালের ৩১ মে নির্ধারিত সময়সীমার পর বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, নিয়োগব্যবস্থা সংস্কার, কর্মী নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো নিয়ে আলোচনা চলে।
এ অবস্থায় নতুন করে demand letter attestation হওয়াকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বাস্তব কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
### এখনই সবাই পাসপোর্ট-টাকা দেবেন না
শ্রমবাজারে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবর এলেও সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকা জরুরি।
২৮ কর্মীর নির্দিষ্ট একটি চাহিদাপত্র সত্যায়ন হওয়া মানেই এখনই যে কেউ যেকোনো এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেবেন বা টাকা দেবেন—এমন নয়।
সাধারণ কর্মীদের জন্য কোন খাতে নিয়োগ হবে, কোন এজেন্সি অনুমোদিত থাকবে, কত টাকা ব্যয় নির্ধারিত হবে, কোথায় মেডিকেল করতে হবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
### দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ে শঙ্কা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের অতীত অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি ছিল অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়।
অনেক কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নতুন করে বাজারে নিয়োগ শুরু হওয়ায় আবারও দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাই সরকারি ঘোষণা, অনুমোদিত রিক্রুটিং চ্যানেল ও লিখিত নিয়োগপত্র ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
### মেডিকেল ও পরবর্তী ধাপের অপেক্ষা
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষা, worker registration, visa approval এবং নিয়োগকর্তার অন্যান্য অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
২৮ কর্মীর demand attestation হয়ে যাওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া কীভাবে এবং কোন ব্যবস্থায় সম্পন্ন হবে, এখন সেই তথ্যের অপেক্ষা।
মালয়েশিয়ার JTKSM-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বিভিন্ন অনুমোদিত সিস্টেম ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। :chatgpt-content-reference{index="3"}
### চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় খবর হলো—শ্রমবাজার নিয়ে শুধু আলোচনা নয়, বাংলাদেশি কর্মীর বাস্তব চাহিদাপত্র সত্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
অর্থাৎ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের দরজা কার্যত খুলেছে।
তবে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত হওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা, অনুমোদিত খরচ, মেডিকেল সেন্টার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং worker selection পদ্ধতির বিস্তারিত প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন।
এ কারণে সুখবরের পাশাপাশি সতর্কতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ—যাচাই ছাড়া কারও কাছে টাকা, পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত নথি দেওয়া উচিত নয়।

সূত্র: বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর; সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদন
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।





