১৮৩৭ টাকার এলপিজি মিলছে না বাজারে, সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ২৫০০
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গ্রাহকদের একটি সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতি, অপারেটর ও ডিলার পর্যায়ে বাড়তি দাম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ভেরিক্সা নিউজ বাণিজ্য ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু বাজারে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম নির্ধারণের পরও এলপিজি বাজারের অস্থিরতা কাটেনি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরবরাহ সংকটের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বিইআরসি প্রতি মাসে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ১২ কেজির সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
তবে বাজারের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
ঢাকার এক গ্রাহক জানিয়েছেন, গত ২ অক্টোবর তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এর মধ্যে ৫০ টাকা ছিল সরবরাহ খরচ। তখন সরকার নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
রাজধানীর হাতিরপুলের এক বিক্রেতাও বাড়তি দামে বিক্রির কথা অস্বীকার করেননি। তার দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণে সিলিন্ডার কিনতেই বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ চালানে প্রতি সিলিন্ডারে তার খরচ পড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা, ফলে তিনি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মিরপুরেও একটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জেও একই চিত্র। সেখানকার এক বিক্রেতা জানিয়েছেন, নতুন চালান এলে প্রতি সিলিন্ডারে তার খরচই পড়বে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা।
বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, অপারেটর কোম্পানি থেকে একজন ডিলারের ১২ কেজির সিলিন্ডার কেনার কথা ১ হাজার ৭৪২ টাকায়। এর সঙ্গে ডিলারের ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার ৪০ টাকা মুনাফা যোগ করে গ্রাহক পর্যায়ে দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
কিন্তু ডিলারদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অপারেটর কোম্পানিগুলোই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম চাইছে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি এ বিষয়ে বিইআরসিকে লিখিত অভিযোগও দিয়েছে। তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু অপারেটর ডিলারদের কাছে প্রতি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাইছে। তবে কয়েকটি কোম্পানি নির্ধারিত দামের কাছাকাছিও সরবরাহ করছে।
সরবরাহ সংকটের চিত্রও প্রকট। মুন্সীগঞ্জের এক ডিলারের দাবি, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। তার ভাষ্য, সাধারণত মাসে ২০ হাজার সিলিন্ডার পর্যন্ত বিক্রি করলেও গত সেপ্টেম্বরে মাত্র ২ হাজার সিলিন্ডারের সমপরিমাণ গ্যাস পেয়েছেন।
বাংলাদেশে এলপিজির ৯৮ শতাংশের বেশি বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি হয়। বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩২ থেকে ৩৩টি কোম্পানির লাইসেন্স থাকলেও সরাসরি আমদানি করছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান।
সেপ্টেম্বরে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার টন।
আমদানির পরিমাণ খুব বেশি না কমলেও বাজারে সরবরাহ সংকট কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কোথাও কোথাও এলপিজি মজুত করে বাড়তি দামে বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে। যদিও কয়েকটি কোম্পানি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অপারেটরদের দাবি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়, স্পট মার্কেটে বাড়তি প্রিমিয়াম, পরিবহন খরচ এবং শিল্পকারখানায় এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যাস আমদানির সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। প্রতি টনে প্রিমিয়াম ২৫০ ডলারের বেশি হয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজারে জবাবদিহি ও নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহক।
নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক ও অভিযানও শুরু হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংকটের কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখন পর্যন্ত গ্রাহকের জন্য নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া নিশ্চিত হয়নি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।





