আট দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সচল বেনাপোল বন্দর, কমতে শুরু করেছে ট্রাকের জট
মিনহাজুল ইসলাম, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। কাজে ফিরেছেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ছুটিতে সীমান্তের দুই পাশে জমে থাকা কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাকের জটও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

ভেরিক্সা নিউজ যশোর প্রতিনিধি
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘ ছুটির পর আবারও পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রমে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।
বন্দর সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজে ফিরেছেন ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পণ্য খালাসের শ্রমিকেরা। দীর্ঘ বিরতিতে সীমান্তের দুই পাশে জমে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমাতে শুরু হয়েছে লোড-আনলোড ও খালাস কার্যক্রম।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে পণ্য পরিবহন ও খালাস কার্যক্রমে জট তৈরি হয়। শনিবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
তবে এই সময়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। ফলে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানিয়েছেন, ছুটি শেষে ব্যবসায়ী, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা নিজ নিজ কাজে ফিরেছেন। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় সীমান্তের উভয় পাশে ট্রাকের চাপ বেড়েছিল। এখন দ্রুত পণ্য খালাসের মাধ্যমে সেই জট কমানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, স্থলপথে ভারত থেকে দেশে আসা আমদানি পণ্যের বড় অংশ এই বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে।
ফলে বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এর প্রভাব পড়ে পণ্য সরবরাহ, শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হয়েছে। ছুটিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আট দিনের বিরতিতে তৈরি হওয়া পণ্যজট ও যানজট নিরসনে দ্রুত খালাস কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পণ্য খালাসের গতি বাড়ানো গেলে সীমান্তের দুই পাশে আটকে থাকা ট্রাকের সংখ্যা দ্রুত কমবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।
আপাতত বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের প্রধান লক্ষ্য জমে থাকা পণ্য দ্রুত খালাস করে আট দিনের অচলাবস্থার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






