মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পেরোতে হবে যে ৮ ধাপ
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য আট ধাপের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। নিয়োগদাতার আবেদন ও কোটা অনুমোদন থেকে শুরু করে লেভি পরিশোধ, কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো, ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রবেশ—সবই এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৭:২৫ পিএম
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একজন বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের আবেদন থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ও কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার এই নির্দেশনাকে দেশটির শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
প্রথম ধাপে, বিদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মীর চাহিদা জানিয়ে আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
একই সঙ্গে নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে, নিয়োগদাতাকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে এবং এরপর কোটা অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপে, নিয়োগসংক্রান্ত নির্ধারিত লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে।
চতুর্থ ধাপে, নিয়োগদাতাকে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টার ও সরকার নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
পঞ্চম ধাপে, কর্মীর নিজ দেশে অবস্থিত মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপে, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এবং মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সপ্তম ধাপে, সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স বা ভিডিআর সংগ্রহ করতে হবে।
অষ্টম ও শেষ ধাপে, কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা জানতে নিয়োগদাতাদের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফডব্লিউসিএমএস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই নির্দেশনা এলো।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং ৪০টির বেশি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া।
এ নিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের একাংশ ‘সিন্ডিকেট’ তৈরির অভিযোগ তুললেও বাংলাদেশ সরকার সেই অভিযোগ নাকচ করেছে।
উল্লেখ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
এরপর নতুন চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
নতুন আট ধাপের প্রক্রিয়া প্রকাশের ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হলেও, কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠানো শুরু হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
ফটো গ্যালারি

- #মালয়েশিয়া
- #বিদেশি কর্মী
- #বাংলাদেশি কর্মী
- #শ্রমবাজার
- #রিক্রুটিং এজেন্সি
- #FWCMS
- #VDR
- #মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






