লাইভ
আন্তর্জাতিক১ ঘণ্টা আগে

স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ইসরাইলের এত খাতির কেন

উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি, পেগাসাস স্পাইওয়্যার এবং বিভিন্ন দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের মধ্য দিয়ে ইসরাইল স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার সরকার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হচ্ছে বলে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ইসরাইলের এত খাতির কেন
শেয়ার করুন

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি, স্পাইওয়্যার এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইসরাইল ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার সরকার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় কূটনীতি, সাইবার প্রযুক্তি এবং বেসরকারি নজরদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সমন্বয়ে ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে।

ইসরাইলের স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পেগাসাস সফটওয়্যার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ব্যবহার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, বিরোধী রাজনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে।

পেগাসাস এমন একটি শক্তিশালী স্পাইওয়্যার, যা লক্ষ্যবস্তু করা মোবাইল ফোনের ফাইল, ছবি, বার্তা ও ব্রাউজিংয়ের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনেও প্রবেশ করতে পারে।

এনএসও সহ-প্রতিষ্ঠাতার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এনএসও গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শালেভ হুলিও ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইসরাইলের একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে পানামায় প্রবেশ করেন। দেশটির অভিবাসন নথিতে তিনি পানামায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে অবস্থান করবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এর আগে ২০১২ সালে পানামা সরকারের কাছে পেগাসাস বিক্রির চুক্তিতে হুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য এনএসও গ্রুপ এবং ইসরাইলি রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁদের ধারণা, এনএসও গ্রুপসহ ইসরাইলের বিভিন্ন নজরদারি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুধু বাণিজ্যিক সংস্থা হিসেবে নয়, ইসরাইলের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শালেভ হুলিও কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এনএসও গ্রুপও দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা গ্রাহকদের হয়ে পেগাসাস পরিচালনা করে না এবং ইসরাইল সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা

বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পেগাসাসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ডিভাইস থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে এসব তথ্য ভবিষ্যতে কোনো দেশের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ কিংবা কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত এক দশকে ইসরাইলি সাইবার ও নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপ, রাশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে পেগাসাসের মতো সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের লক্ষ্যবস্তু করার তথ্যও সামনে এসেছে।

নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, কলম্বিয়া ও হন্ডুরাসসহ বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, বট নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে।

এসব তৎপরতার মাধ্যমে ইসরাইল-সমর্থক প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া এবং ফিলিস্তিনপন্থী কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটব্যবস্থার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

লাতিন আমেরিকায় সক্রিয়তা

প্রতিবেদনটিতে লাতিন আমেরিকাকে ইসরাইল-সমর্থিত রাজনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের মধ্যে কথিত সমন্বয়ের মাধ্যমে কয়েকটি দেশের বামপন্থী সরকারকে দুর্বল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া ব্রাজিলের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারণার প্রতি নেতানিয়াহুর সমর্থনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, নির্বাচনের আগে অনলাইন প্রচারণা ও সাইবার কৌশলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সমর্থন কমার প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং গণহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে রাজনৈতিক মিত্র বাড়ানো এবং কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসরাইল প্রযুক্তি, কূটনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সমন্বিত কৌশল আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত নির্বাচনি হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

ফটো গ্যালারি

স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ইসরাইলের এত খাতির কেন — 1
  • #স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক
শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

আঞ্চলিক কূটনীতি নিয়ে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান কর্মকর্তাদের ফোনালাপ
আন্তর্জাতিক
লাইভশীর্ষে

আঞ্চলিক কূটনীতি নিয়ে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান কর্মকর্তাদের ফোনালাপ

ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ফোনে আলোচনা করেছেন।

১৮ ঘণ্টা আগে

ভেরিক্সা নিউজ