নেপালে টানেলে প্রবেশপথের সন্ধান, বুকসমান কাদায় থমকে উদ্ধার অভিযান
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। Upper Trishuli–3A প্রকল্পের টানেলে প্রবেশের সম্ভাব্য পথ শনাক্ত করা হলেও Chilime Hydropower Project-এর টানেলে বুকসমান কাদা ও পলির কারণে উদ্ধারকারীদের অগ্রযাত্রা থেমে গেছে।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ ঢল ও ভূমিধসের পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি টানেলে সম্ভাব্য প্রবেশপথ শনাক্ত হলেও পানি, ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকারীদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে Upper Trishuli–3A Hydropower Project-এর একটি টানেলের উপরের অংশ বা ‘crown’ শনাক্ত করতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী দল।
ড্রিলিং মেশিন, এক্সকাভেটর এবং হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে ওই অংশে পৌঁছানোর পর টানেলের ভেতরে প্রবেশের উদ্দেশ্যে একটি ছিদ্র তৈরি করা হয়।
উদ্ধারকারীরা সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে থাকা সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্দেশে ডাকাডাকি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারী দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে টানেলের ভেতরে পানির স্তর অনেক ওপরে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে সরাসরি গভীরে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরবর্তী ধাপে আরও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রশস্ত করার প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি নিরাপদ পথ তৈরি করা, যেখান দিয়ে উদ্ধারকারী দল টানেলের আরও গভীরে পৌঁছাতে পারে।
Nepal Electricity Authority (NEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, Upper Trishuli–3A প্রকল্পের cable access tunnel-ও শনাক্ত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই পথটি উদ্ধারকারীদের জন্য বিকল্প প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এর মাধ্যমে আটকে থাকা কর্মীদের অবস্থানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এর আগে টানেলের বিভিন্ন অংশে পাঁচটি ছিদ্র করে ভেতরে বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, প্রকল্পটির ভেতরে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন কর্মকর্তা ও কর্মী আটকে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে Chilime Hydropower Project-এর টানেলেও বিশেষায়িত উদ্ধার অভিযান চলছে।
অভিজ্ঞ mountain guide এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দড়ি ব্যবহার করে টানেলের প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
তবে ভেতরে জমে থাকা ঘন কাদা ও পলির স্তর একপর্যায়ে উদ্ধারকারীদের বুক পর্যন্ত উঠে আসে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখান থেকে আরও সামনে এগোনো সম্ভব হয়নি এবং অভিযান সাময়িকভাবে ওই পর্যায়ে থামিয়ে দিতে হয়।
এখন শক্তিশালী পাম্প, মোটর এবং হোস পাইপ ব্যবহার করে টানেলের ভেতরের কাদা, পানি ও পলি সরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পথ পরিষ্কার করা সম্ভব হলে আবারও গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করবে উদ্ধারকারী দল।
চিলিমে টানেল এলাকায় চলমান অভিযানের সময় বাইরে থেকে একজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন।
ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষ technical ও tunnel-rescue team চিলিমে এলাকায় নেপালি উদ্ধারকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং tunnel engineer-সহ বিশেষ দলটি নেপালি সেনাবাহিনী, Nepal Police এবং Armed Police Force Nepal-এর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
চীনের বিশেষায়িত tunnel-rescue দলও উদ্ধার সরঞ্জামসহ নেপালে পৌঁছেছে।
ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরা টানেলের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় উদ্ধারকারী বাহিনীকে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
ভয়াবহ ঢল ও ভূমিধসের পর টানেলগুলোর ভেতরে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পলি এবং ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কোথাও নতুন করে প্রবেশপথ তৈরি করা হচ্ছে, কোথাও কাদা ও পানি সরানো হচ্ছে, আবার কোথাও টানেলের ভেতরে বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে নেপালি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো।
সূত্র: Nepali Army, Nepal Electricity Authority (NEA), Armed Police Force Nepal (APF Nepal) ও নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফটো গ্যালারি
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






