হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখেন ট্রাম্প
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ এএম
হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। একই সময়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ চলছে বলে জানানো হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৮:০৭ এএম
হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এমন সময়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য এলো, যখন ইরানের জাহাজ ও বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ চলছে এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার চেষ্টা করছে তার প্রশাসন।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় সিনেট প্রার্থী ডার্লিন গ্রাহামের প্রচারে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা আদৌ জিতেছেন কি না, সেটিও তিনি জানেন না। কারণ, এই মুহূর্তে তিনি হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবে দেখছেন।
ডার্লিন গ্রাহাম তার প্রয়াত ভাই লিন্ডসে গ্রাহামের সিনেট আসনটি স্থায়ীভাবে পূরণের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েই ট্রাম্প বক্তব্য দেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ইরানে আরও হামলার প্রসঙ্গও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার রাতের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাদের হাতে সময় রয়েছে। এরপর তিনি তার নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে প্রায়ই আবৃত্তি করা ‘দ্য স্নেক’ কবিতাটি পাঠ করেন।
পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ইরানে গিয়ে তাকে আরও কিছু বোমা ফেলতে হবে কি না।
এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে অবরোধ মেনে চলতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এ তথ্য জানায়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। সংঘাত শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চললেও দুই দেশ কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে দেশটির তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগেও হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করার ধারণা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের মতো হয়ে গেছে। তার যুক্তি ছিল, সেখানে অবরোধ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে পার হতে দেওয়া হচ্ছে না।
সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি তার পছন্দ।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এটিকে একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ধারণাটি তার পছন্দ।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন।
ফটো গ্যালারি

- #ডোনাল্ড ট্রাম্প
- #হরমুজ প্রণালি
- #যুক্তরাষ্ট্র
- #ইরান
- #সামরিক অবরোধ
- #সেন্টকম
- #মধ্যপ্রাচ্য
- #আন্তর্জাতিক
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






