নেপালে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ৬ বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
নেপালের রাসুয়া জেলার টিমুরে এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে প্রায় ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ছয় বছরের শিশু মনীষাকে জীবিত উদ্ধার করেছে Armed Police Force Nepal (APF Nepal)। উদ্ধার অভিযানের সময় কান্নার মতো শব্দ শুনে অনুসন্ধান শুরু করেন বিশেষায়িত CSSR দলের সদস্যরা।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৪:৫৫ পিএম
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে প্রায় ৬০ ঘণ্টা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে দেশটির Armed Police Force Nepal (APF Nepal)।
রাসুয়া জেলার টিমুরে এলাকায় চলমান অনুসন্ধান অভিযানে শিশুটিকে খুঁজে পান APF Nepal-এর বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। শিশুটির নাম মনীষা বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
APF Nepal-এর মুখপাত্র ডিআইজি নেত্র বাহাদুর কারকির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালানোর সময় উদ্ধারকারী দলের একজন সদস্য হঠাৎ শিশুর কান্নার মতো একটি শব্দ শুনতে পান।
বাইরে থেকে ওই স্থানে কোনো মানুষকে দেখা যাচ্ছিল না। এরপর শব্দটির উৎস নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারীরা সেখানে কাদা, কাঠ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরাতে শুরু করেন।
দীর্ঘ সময় সতর্কতার সঙ্গে খনন ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের পর কাদার নিচে আটকে থাকা ছয় বছরের মনীষাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
APF-এর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মাথা ছাড়া শরীরের বেশিরভাগ অংশ কাদার নিচে চাপা পড়ে ছিল।
তার ওপর পড়ে থাকা একটি কাঠের কাঠামোর কারণে ছোট একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল। ফলে মাথার অংশ পুরোপুরি কাদার নিচে চাপা পড়েনি। ওই জায়গা থেকেই তার কান্নার শব্দ বাইরে পৌঁছাতে পেরেছিল বলে উদ্ধারকারীদের ধারণা।
বাহিনীটি জানিয়েছে, ভয়াবহ দুর্যোগের পর মনীষা প্রায় ৬০ ঘণ্টা ওই অবস্থায় আটকে ছিল।
দীর্ঘ সময় কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকার কারণে উদ্ধারের সময় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল।
শিশুটিকে প্রথমে APF-এর Timure Border Outpost-এ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।
APF Nepal-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের একপর্যায়ে মনীষার বাবা-মায়েরও সন্ধান পাওয়া গেছে। তারাও ভয়াবহ বন্যা থেকে জীবিত বেঁচে গেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিশুটির মা গীতা টিমুরে এলাকার একটি ব্যাংকে কর্মরত বলে জানিয়েছে APF।
মনীষার বাবা-মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বন্যার স্রোত তাদের একটি দেয়ালের দিকে ছুড়ে দিয়েছিল। সেই অবস্থার মধ্যেই তারা প্রাণে বেঁচে যান।
পরে তাদের জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া ছয় বছরের সন্তান মনীষাকেও প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেছে APF Nepal-এর Collapsed Structure Search and Rescue (CSSR) ইউনিট।
বড় ধরনের দুর্যোগে ধসে পড়া ভবন, অবকাঠামো এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজে বের ও উদ্ধারে এই বিশেষায়িত দল কাজ করে।
APF Nepal জানিয়েছে, রাসুয়া ও নুয়াকোটের বন্যাকবলিত এলাকায় CSSR সদস্যদের পাশাপাশি ড্রোন অপারেটর, ডুবুরি, রোপ রেসকিউ দল, মেডিকেল ইউনিট এবং অনুসন্ধানকারী কুকুরসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত দল মোতায়েন রয়েছে।
নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে এসব দল দুর্গম এলাকা, ধ্বংসস্তূপ, নদীতীর এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোয় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর যখন উদ্ধারকারীরা এখনো বহু নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে কাজ করছেন, তখন প্রায় আড়াই দিন কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও ছয় বছরের মনীষার জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি চলমান অভিযানে এক ব্যতিক্রমী সফলতা হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্র: Armed Police Force Nepal (APF Nepal) — মুখপাত্র ডিআইজি নেত্র বাহাদুর কারকি।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






