রাসুয়া সীমান্তে অস্থায়ী হ্রদ উপচে নতুন ঢলের ঝুঁকি, বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
আগের ভয়াবহ ধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ আটকে তৈরি অস্থায়ী হ্রদ উপচে পড়ায় নেপাল–তিব্বত সীমান্তে নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ নদীর পানি, পাহাড়ি ঢাল ও হ্রদটির অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ২:৩৩ পিএম
নেপাল–তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন করে আকস্মিক ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগের দুর্যোগের ধ্বংসাবশেষে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদ বা barrier lake-এর পানি উপচে পড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
চীনের সরকারি জলসম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের দিকে দুটি নদীর মিলনস্থলের কাছে স্পষ্ট একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল এবং হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ার অবস্থায় পৌঁছায়।
কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। এতে অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে যাওয়ার ঝুঁকি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
এই ঝুঁকির কারণে সীমান্তের উভয় পাশে নদীর প্রবাহ, অস্থায়ী হ্রদ ও আশপাশের পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতার ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে উদ্ধারকাজের নিরাপত্তা, আগাম সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের গিরং অঞ্চলে ইতোমধ্যে ঝুঁকিতে থাকা কয়েকশ মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদ, বরফধসের উৎস এলাকা, পাহাড়ি গিরিখাত এবং উদ্ধারপথ পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
নেপাল সরকারের Ministry of Home Affairs জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও গোরখাসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগের পরপরই সরকার অনুসন্ধান, উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও চলছে।
সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৮৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ জনকে।
অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে মোট ১৩ হাজার ২৯৫ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। আকাশপথে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তায় মোট ১৫টি হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে অস্থায়ী হ্রদটির পানি আরও বেড়ে যাওয়া। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধের অংশ ভেঙে নিচের দিকে হঠাৎ বড় ঢল নামতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী বসতি, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং উদ্ধার কার্যক্রম নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
চীনের সরকারি কর্তৃপক্ষও শুক্রবার অস্থায়ী হ্রদ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি উজান ও ভাটির ঝুঁকি সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নেপালের Department of Hydrology and Meteorology (DHM) ২৮ আগস্টও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করছে। বৃষ্টিপাত সতর্কতা কার্যকর থাকা কয়েকটি স্টেশনও সরকারি ব্যবস্থায় দেখানো হচ্ছে।
চরম আবহাওয়া ও বন্যাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য DHM-এর টোল-ফ্রি ১১৫৫ নম্বর চালু রয়েছে। সেখানে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বন্যার আগাম সতর্কতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন কোনো পৃথক ঝড়ের কারণে তৈরি হয়নি। আগের দুর্যোগে হিমবাহ ও পাহাড়ি ধস থেকে নেমে আসা বিপুল ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত করার পর অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। সেই হ্রদে পানি বাড়তে থাকাই এখন নতুন করে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় নদীর পানি, অস্থায়ী হ্রদ এবং পাহাড়ি ঢালের অবস্থার ওপর সরকারি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: National Disaster Risk Reduction and Management Authority (NDRRMA), Ministry of Home Affairs এবং Department of Hydrology and Meteorology (DHM), Government of Nepal; Ministry of Water Resources of China ও Xizang Autonomous Region Government.
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






