‘তেলের দাম শুনে বাইক কেনার ইচ্ছা নাই’—পোস্টের পর বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন (উত্তর) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে কারণ হিসেবে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ’ উল্লেখ করা হলেও নাঈমের দাবি, তেলের দাম নিয়ে দেওয়া পোস্টের কারণেই কোনো শোকজ ছাড়াই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ ভোলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘আল্লাহ বাঁচাইছে কিছুদিনের ভিতরে প্ল্যান ছিল নিজের সব থেকে পছন্দের বাইকটা নিব। কিন্তু তেলের দাম শুনে এখন আর ইচ্ছা করতেছে না’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি পোস্ট দেওয়ার পর ভোলার তজুমদ্দিনে ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতা মো. নাঈম তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন (উত্তর) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সোমবার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেন ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
### বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’
উপজেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাঈমকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
### নাঈমের দাবি—পোস্টের কারণেই বহিষ্কার
নাঈম দাবি করেছেন, বহিষ্কারের আগে তাকে কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।
তার ভাষ্য, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তেলের দাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্য একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাঈম ওই পোস্টে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারার কথা উল্লেখ করে নিজে থেকেই সাধারণ সম্পাদক পদ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।
তবে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে’ বহিষ্কারের কথাই বলা হয়েছে।
### ‘আমরাই কমিটি করেছি, বহিষ্কারও করতে পারি’
উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করার সাংগঠনিক এখতিয়ার রাখে কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জানিয়েছেন, তাদের স্বাক্ষরেই ওই ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সেই হিসেবে তারা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জেলা কমিটির মৌখিক অনুমতি নিয়েই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
### জ্বালানির দাম নিয়ে অন্য ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের আরও নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জামালপুর জেলা ছাত্রদলের এক নেতাকেও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে প্রতিটি ঘটনায় সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভাষা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিজস্ব বক্তব্য এক নয়। ফলে কোন ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সরাসরি সাংগঠনিক শাস্তির কারণ হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ও বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






