শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড শিগগিরই বৈঠকে বসবে। পোশাক খাতে পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পোশাক খাতে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজ, বিশৃঙ্খলা কিংবা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বোর্ডের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাঁদের জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবিদাওয়া সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর মালিকানাধীন পোশাক কারখানাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে তাঁদের নাম কিংবা অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরার তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যেসব কারখানার মালিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন অথবা পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের একটি তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বা শ্রমিক প্রতিনিধিদের বক্তব্য পাওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সরকার কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ করতে চায় না বলে স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার কার্যক্রম সচল রাখা।
মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক নেতারা তাঁদের প্রতিনিধি মনোনয়নে বিলম্ব করেছেন। এ কারণে বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার শুধু শেখ হাসিনাকেই নয়, ভারতে অবস্থানরত পলাতক অন্য ব্যক্তিদেরও দেশে ফেরত চায়।
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস হওয়ায় এ সময় বিজয়কে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পোশাকশিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






