পাটওয়ারীর ওপর হামলায় ছাত্রদলের দুই নেতার নাম, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
মিনহাজুল ইসলাম, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতার নাম সামনে এনেছে এনসিপি। জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহার দাবি, হামলায় সংগ্রাম হোসেন ও রাফিদ শরিফ পাপন নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে কুমারখালী থানায় মামলা করতে গিয়ে পুলিশের অসহযোগিতার মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

ভেরিক্সা নিউজ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতার নাম সামনে এনেছে জেলা এনসিপি।
কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহার দাবি, কুষ্টিয়া শহর ছাত্রদলের সদস্য সংগ্রাম হোসেন এবং শহরের রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাফিদ শরিফ পাপন ওই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে এ দুই নেতার ব্যক্তিগত দায় এখনো কোনো তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি।
রোববার সন্ধ্যায় লালন আখড়াবাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে বহনকারী গাড়িতেও ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদের ভাষ্য, পাটওয়ারী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে সন্ধ্যায় লালন আখড়াবাড়িতে যান।
বাউলদের গান শোনার পর বের হওয়ার সময় দুই নারী তার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে একটি ডিম ছোড়া হয়। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সেখানে জড়ো হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন।
শোভনের দাবি, একপর্যায়ে কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে পাটওয়ারীর দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় এনসিপির কয়েকজন নেতা আহত হন। পরে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে পাটওয়ারীকে বহনকারী গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়া হয়।
হামলার পর এনসিপি নেতারা মামলা করতে রাত প্রায় ৯টার দিকে কুমারখালী থানায় যান।
সুলতান মারুফ তালহার অভিযোগ, শুরুতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন মামলা নেওয়ার কথা বললেও পরে টালবাহানা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও মামলা করতে না পেরে রাত ১২টার পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।
তালহা আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি নেতারা থানায় অবস্থান করার সময় বাইরে জড়ো হওয়া একদল ব্যক্তি তাদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলে জানান তিনি।
এদিকে হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেয় এনসিপি।
নেতাকর্মীরা মাঠে জড়ো হয়ে সড়কে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে সেখানেই তারা বিক্ষোভ করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এনসিপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।
এনসপির জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌসি টনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের রাস্তায় বের হতে দেয়নি এবং কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে তারও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি।
হামলায় নাম আসা সংগ্রাম হোসেন ও রাফিদ শরিফ পাপনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বির সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






