নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৬৫, নিখোঁজ ৮২৬; খোঁজ নেই ৪৭৬ বিদেশি পর্যটকের
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ। পর্যটন কর্মকর্তাদের সর্বশেষ হিসাবে নিখোঁজ ৫৭০ পর্যটকের মধ্যে ৪৭৬ জনই বিদেশি। বৃহস্পতিবার নতুন করে ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি নাগরিক।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১:৪৮ পিএম
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির পুলিশ।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক রয়েছেন।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের সর্বশেষ হিসাবে, ৫৭০ পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ১৭৭ ভারতীয় পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৫৫ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে নিখোঁজ মালয়েশীয় পর্যটকের সংখ্যা ২৮।
জার্মানি, জাপান, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।
দুর্যোগের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নতুন করে ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি নাগরিক।
সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক দুর্গত এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল, খাবার, তাঁবু ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
নেপালজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। প্রবল পানি, কাদা ও পাথরের স্রোতে বহু বসতি, বাজার, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
রাসুয়ার ভোটেকোশি ও লেন্দে খোলা নদী দিয়ে নেমে আসা ভয়াবহ ঢল পরে ত্রিশুলি নদীর নিম্নাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। নুয়াকোটসহ ভাটির বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি কাদার নিচে চাপা পড়েছে।
উদ্ধারকারীরা মূল দুর্যোগস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের চিতওয়ান এলাকাতেও মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
বন্যার কারণ নিয়েও নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
প্রথম দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে দুর্যোগটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস পরে তাদের বিশ্লেষণ সংশোধন করেছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, সেখানে ভূমিকম্প হয়নি। বরং তারা যে কম্পন শনাক্ত করেছিল, সেটি ছিল বড় ধরনের হিমবাহ ধসের সংকেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফ ও পাথরের বিশাল ধস লেন্দে খোলা নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দেয়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে আসে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের পর্যবেক্ষণে ত্রিশুলি নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত তিনজন মারা গেছেন এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও নেপালে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ভারত জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি আশ্রয়, ত্রাণসামগ্রী, পানি ও স্যানিটেশন সহায়তার জন্য পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশও নেপালের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান। নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য হিসাবে নেপালে ১৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৮২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






