ড্রোন হামলা চললে জাওইয়া শোধনাগার বন্ধ ও ফোর্স মেজরের হুঁশিয়ারি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে জাওইয়া শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশন।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১:৩১ অপরাহ্ন
সূত্র: রয়টার্স
লিবিয়ার জাওইয়া শহরের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে ফোর্স মেজর ঘোষণা এবং জাওইয়া শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় তেল করপোরেশন (এনওসি)।
রোববার ও সোমবারের মধ্যে জাওইয়ার তেল স্থাপনায় তিনটি ড্রোন হামলার তথ্য জানানোর পর মঙ্গলবার এ সতর্কতা দিয়েছে এনওসি।
ফোর্স মেজর হচ্ছে এমন একটি আইনি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে চুক্তিগত দায়বদ্ধতা পালন স্থগিত করতে পারে।
এনওসি জানিয়েছে, সর্বশেষ ড্রোনটি জাওইয়া অয়েল রিফাইনিং কোম্পানি পরিচালিত একটি তেল মিশ্রণ ও বোতলজাতকরণ কারখানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ড্রোনটি কারখানার প্রধান তেল ট্যাংক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্কের কাছে পড়ে।
সর্বশেষ ওই হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ড্রোন হামলাগুলোর দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। হামলার পেছনে কারা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওইয়া শোধনাগারের দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এটি দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতার শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত।
রাস লানুফ শোধনাগার বর্তমানে বন্ধ থাকায় জাওইয়া এখন লিবিয়ার সবচেয়ে বড় সচল তেল শোধনাগার।
সোমবার জাওইয়া শোধনাগারের একটি তেল ডিপোর জ্বালানি ট্যাংকে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি।
লিবিয়ার তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রেগার মালিকানাধীন ওই ট্যাংকে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল ছিল। আগুন লাগার পর ট্যাংকটি ধসে পড়ে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় জাওইয়া তেল কমপ্লেক্স ও শোধনাগারের পাশাপাশি একটি পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনাকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
এনওসি সোমবার দেওয়া আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, জ্বালানি ট্যাংকটিকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাটিতে সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও তদন্তের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা ভিডিওতে জাওইয়ার আকাশে বিশাল আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।
শোধনাগারটিতে কর্মরত দুই প্রকৌশলী সোমবার জানিয়েছিলেন, হামলা ও আগুনের ঘটনার পরও শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।
এর আগে শনিবার ভোরে একটি ড্রোন জাওইয়া শোধনাগারের অপরিশোধিত ন্যাফথার ট্যাংকে বিধ্বস্ত হয়। এতে ট্যাংক থেকে ন্যাফথা বের হতে শুরু করলেও কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে শোধনাগারটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আবারও সতর্ক করেছে লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশন।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #লিবিয়া
- #জাওইয়া শোধনাগার
- #ড্রোন হামলা
- #জাতীয় তেল করপোরেশন
- #ফোর্স মেজর
- #তেল শোধনাগার
- #Reuters
- #Libya
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






