চাঁদাবাজির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, অধরা সন্দ্বীপের ঘাটদস্যুরা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলামকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌঘাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৯:০৫ পিএম
চাঁদাবাজির অভিযোগ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলামকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌঘাটে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকা এবং এর জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনার পর এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শহিদুল ইসলামকে বহিষ্কার করলেই ঘাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অবসান হবে না। তাদের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
শনিবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শহিদুল ইসলামকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
দপ্তর সম্পাদক নাজিম উদ্দীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলামকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।
একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঘাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে হঠাৎ স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
গত বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার পথে ঘাটে আটকা পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন (৭২)।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও পারাপারের ব্যবস্থা না হওয়ায় ঘাটেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর ঘাট ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকের প্রায় ২৭ মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই অডিওতে শহিদুল ইসলামসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে দলের পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গোপন অডিওতে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ও অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, জগলুল হোসেন নয়নের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকেই চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শহিদুলের অভিযোগের বিষয়ে স্পিডবোট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আরকে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, শহিদুল তাদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন।
নয়ন আরও দাবি করেন, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন তার নৌঘাট ব্যবসার অংশীদার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসার পুরো মুনাফা ভোগ করেছেন।
অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম বলেন, বহিষ্কারাদেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও দলীয় শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের লাভজনক ঘাট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আত্মগোপনে থাকলেও তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের প্রভাব ঘাট এলাকায় এখনো রয়েছে।
তাদের আরও দাবি, ঘাট ব্যবসার বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগাভাগি ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শহিদুল ইসলামের বহিষ্কারকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, একজনকে শাস্তি দিয়ে মূল হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা যুবদল নেতা টিটু হায়দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, শহিদুলকে বলি দিয়ে দীর্ঘদিনের ঘাটকেন্দ্রিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষা করা হচ্ছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি জানান, ঘটনা জানার পর স্পিডবোট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, ঘাটে চাঁদাবাজি ও পলাতক সিন্ডিকেটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একজন ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করলেই কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের নৈরাজ্য বন্ধ হবে না। তারা ঘাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ফটো গ্যালারি

- #সন্দ্বীপ
- #ছাত্রদল
- #শহিদুল ইসলাম
- #কুমিরা-গুপ্তছড়া
- #চাঁদাবাজি
- #নৌঘাট
- #সিরাজ উদ্দিন
- #ঘাট সিন্ডিকেট
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






