গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে তর্ক, ‘বিনা পয়সার বুদ্ধি’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সদস্যপদ বহাল থাকার প্রশ্নে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে তোলার পর এটিকে ‘বিনা পয়সার বুদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেন।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।
আলোচনাটি ছিল তীব্র, তবে একাধিক পর্যায়ে হাস্যরসও তৈরি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংসদের বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যকে কোনো না কোনো সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের তালিকায় গাজী নজরুল ইসলামের নাম না থাকায় এবং আরও কয়েকটি কমিটিতে তাকে রাখা নিয়ে আপত্তি থাকায় শেষ পর্যন্ত অন্য একটি কমিটিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
### সদস্যপদ বাতিলের প্রশ্নে ৭০ অনুচ্ছেদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হলেই কোনো সংসদ সদস্যের আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না।
তিনি বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি তারা সত্যিই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করতে চায়, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে উত্থাপন করতে পারে।
তার ভাষায়, স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে সে যুক্তি তুলে ধরলে সাংবিধানিকভাবে বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ সময় তিনি রসিকতা করে বলেন, “এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।”
### বিরোধীদলীয় নেতার পাল্টা জবাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গ্রামবাংলায় একটি প্রচলিত কথা আছে—কারও ওপর প্রতিশোধ নিতে হলে তাকে মেম্বার নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিতে হয়।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝেমধ্যেই এমন রাজনৈতিক ‘টিপস’ দেন, যা তারা উপভোগ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তিকে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কমিটিতে না রাখাই দৃষ্টান্তমূলক হতো।
তিনি কমিটি পুনর্গঠনের সময় গাজী নজরুলকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
### কমিটি থেকে প্রত্যাহারের আশ্বাস
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য দিয়ে জানান, বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গাজী নজরুল ইসলামকে ওই কমিটি থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
তবে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, এতে মনে হচ্ছে বিরোধী দল তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের প্রশ্নের চেয়ে কমিটিতে না রাখার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
### ‘ভোটদানে বিরত থাকা’ কি ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায়?
বিতর্কের শেষদিকে বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অনুচ্ছেদটিতে দলের বিপক্ষে ভোটদানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হলেও ভোটদানে বিরত থাকা একইভাবে প্রযোজ্য কি না, সেটি ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
তবে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতিকে তিনি স্বাগত জানান।
পুরো বিতর্কে সংসদীয় বিধি, দলীয় শৃঙ্খলা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং বহিষ্কৃত কোনো সংসদ সদস্যের সাংবিধানিক অবস্থান—এই চারটি বিষয়ই মূল আলোচনায় উঠে আসে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






