‘প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন নাকি তারেক রহমান’—বিএনপিকে প্রশ্ন দিলারা চৌধুরীর
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নাকি তারেক রহমান—এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের ভূমিকা ও বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক আলোচনা সভায় তিনি জুলাই সনদ, গণভোট ও বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নাকি তারেক রহমান—এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের ভূমিকা এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দিলারা চৌধুরী বলেন, তারেক রহমান নিজে কোনো কথা না বলে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর দায় চাপিয়ে পরে ‘আমি কিছু জানি না’ বললে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তার বক্তব্যে জুলাই সনদ, জুলাইয়ের রাজনৈতিক ঐক্য এবং গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ও উঠে আসে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাইয়ের ঐক্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
দিলারা চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের সম্পদের অভাব নেই এবং সরকারের আয়েরও ঘাটতি নেই। তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুশীল সমাজের একটি অংশ একমত না হলে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনই পূর্ণতা পেতে পারে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির একেকটি উপজেলায় একাধিক প্রার্থী হওয়ার খবর রাজনৈতিক বিভ্রান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গণভোট ইস্যুতে আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্ন বিচার বিভাগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বিএনপি নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
তিনি বলেন, ২০২৪–পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি চাইলে নিজেদের নেতৃত্বে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারত।
তবে গণভোটের প্রশ্নে দলটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন—কাদের পরামর্শে বিএনপি গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
### বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আরও সমালোচনা
আলোচনা সভায় অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদের প্রতিটি সংস্কার এবং এর সুফল বাস্তবায়িত হতে দেখতে চেয়েছিলেন।
তার অভিযোগ, বিএনপি এমন একটি অবস্থানে যাচ্ছে যেখানে দলটি নিজেই রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক চরিত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন ব্যক্তি বারবার সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে যে অবস্থান নিচ্ছেন, সেটিও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তাজুল ইসলামের বক্তব্যে ১৯৭২ সালের সংবিধান, ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংস্কার প্রশ্নও উঠে আসে।
### জুলাই সনদ বিতর্কের প্রসঙ্গ
আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভিন্নমতের ৪০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান ও অন্তর্বর্তী সময়ের বিভিন্ন ঘটনা সামনে এনে জুলাই সনদকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল, জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ, অল্টারনেটিভের সংগঠক তাজনুভা জাবিন এবং সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলীসহ অন্যরা।
সভায় বক্তাদের বক্তব্যে গণভোট, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানই প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






