নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনেছেন—তীব্র আক্রমণ আরাঘচির
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘serpent’ বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, মার্কিন জনমত ও নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার বিষয়টি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুকে ‘serpent’ বা সাপের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আরাঘচির দাবি, হিব্রু ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার বিষয়ে গর্ব করেছেন এবং ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত করার প্রসঙ্গেও হাস্যরস করেছেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রায় এক হাজার ঘণ্টার প্রচার-উপস্থিতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত ও নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের কথা নেতানিয়াহু নিজেই তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন—এই বৈপরীত্যও নিজের পোস্টে তুলে ধরেন আরাঘচি।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের স্বার্থে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে যুক্ত হতে মার্কিন প্রশাসনকে কৌশলে প্রভাবিত করেছেন নেতানিয়াহু।
তার এই মন্তব্যের পেছনে একটি প্রকাশ্য বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও রয়েছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে নেতানিয়াহু মার্কিন জনমত প্রভাবিত করার সক্ষমতা নিয়ে কথা বলেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আরাঘচি সেই বক্তব্যেরই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুকে আক্রমণ করেছেন। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
আরাঘচির মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাহিনী সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন এবং জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে।
একই সময়ে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে হামলার দাবি করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই দাবির মূল অংশ অস্বীকার করেছে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। নতুন করে সংঘর্ষের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফলে আরাঘচির বক্তব্য শুধু ইসরায়েল-ইরান রাজনৈতিক বিরোধের অংশ নয়; এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সূত্র: আব্বাস আরাঘচির এক্স পোস্ট, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






