মুসলিম হয়ে প্রতিবাদ কেন? ভারতে শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
ভারতের আসামে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় সাহিল খান নামে এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, থানায় নেওয়ার পথে ও আটকের সময় তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনের আয়োজকেরা।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছিলেন ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাহিল খান। কিন্তু সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁকে পুলিশ আটক করে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাঁকে অপমান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভারতের আসাম রাজ্যের এই শিক্ষার্থী।
গত ১৩ অক্টোবর আসামের গুয়াহাটিতে ঘটনাটি ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সাহিল খান স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) একজন কর্মী। তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
সেদিন গুয়াহাটির নেহরু পার্কের কাছে ‘উইমেন এগেইনস্ট ভায়োলেন্স কালেকটিভ’ আয়োজিত ‘উইমেনস ফ্রিডম মার্চ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সাহিল। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং সমান অধিকারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর এক বন্ধুর সঙ্গে স্কুটারে করে ফিরছিলেন তিনি।
সাহিলের অভিযোগ, কর্মসূচিস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। প্রথমে স্কুটারের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। এরপর কোনো কারণ না জানিয়েই তাঁকে পুলিশের গাড়িতে উঠতে বলা হয়।
আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বলে দাবি করেন সাহিল। তাঁর অভিযোগ, গাড়িতে উঠতে অস্বীকৃতি জানালে এক পুলিশ সদস্য ও গাড়িচালক চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে তাঁকে গাড়িতে তোলেন। গাড়ির ভেতরেও তাঁকে মারধর করা হয়।
সাহিলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। মুসলিম হয়েও কেন তিনি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বারবার ‘মিয়া’ বলে সম্বোধন করেন। একপর্যায়ে তাঁকে গায়েব করে দেওয়া এবং হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
সাহিল প্রশ্ন তুলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার চাওয়া অপরাধ কি না, নাকি মুসলিম পরিচয়ের কারণেই তাঁকে এ ধরনের আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নিলেও পুলিশ শুধু তাঁকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এদিকে সাহিলকে আটকের খবর পেয়ে তাঁর বন্ধু ও সহকর্মীরা বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রথমদিকে পুলিশ সাহিলকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও চাপ প্রয়োগের পর তাঁকে পানবাজার থানায় রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক এবং এসএফআইয়ের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক উৎপলা দাস জানান, সাহিলের অবস্থান জানতে তাঁদের একাধিক থানায় যেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পানবাজার থানায় আটকে রাখার তথ্য পাওয়া যায়।
উৎপলা দাসের অভিযোগ, সাহিলকে চুল ধরে টেনে নেওয়া, মারধর এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অপমান করার বিষয়গুলো তাঁরা সাহিলের কাছ থেকে জানতে পারেন।
তিনি আরও জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। পরে সাহিলের নামের সঙ্গে ‘মিয়া’ শব্দ যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে ওই নামে ডাকা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তবে সাহিলের নাম সাহিল খান উল্লেখ করে সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উৎপলা।
চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সাহিলকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশের আচরণ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের আয়োজকেরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে যাওয়ার পথে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ পথ ঘুরে পরে তাঁকে আবার থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।
সাহিল ও আন্দোলনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে রাত ৯টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
যে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে সাহিলকে আটক করা হয়, সেটি আয়োজন করা হয়েছিল আসামে নারীর প্রতি সহিংসতার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রতিবাদে। আয়োজকদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে পুলিশ তাঁদের পদযাত্রা এগিয়ে নিতে বাধা দেয়। পরে তাঁরা একই স্থানে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান।
আয়োজকেরা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে যৌন সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় দুই তরুণীর মৃত্যুর পর নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
সাহিলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে আন্দোলনের আয়োজকেরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের প্রশ্নও এ ঘটনায় সামনে এসেছে।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা মারধর, সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা পাওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: মাকতুব মিডিয়া;
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






