দিল্লিতে ব্যারিকেড সরিয়ে এগোচ্ছে বিক্ষোভ, আটক নেতারা—কড়া নিরাপত্তায় থমথমে রাজধানী
মিনহাজুল ইসলাম, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের আটক করার পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা দিল্লি হাটমুখী মিছিল নিয়ে বের হন। পথে ব্যারিকেড সরিয়ে বিক্ষোভকারীদের এগোতে দেখা গেছে। রাজধানীজুড়ে বিপুল পুলিশ মোতায়েন ও চলাচলে কড়াকড়ি করা হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ একাধিক নেতাকর্মীকে আটক করার পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামেন।
যন্তর মন্তরে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রবেশে বাধার কারণে বিক্ষোভের কেন্দ্র বদলে দিল্লি হাটে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়।
বেলা ১টার পর নেহা বোরা সমর্থকদের নিয়ে দিল্লি হাটের দিকে অগ্রসর হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে এগোচ্ছেন এবং পথে একাধিক পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে দিচ্ছেন।
সিজেপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, যেখানে তাদের আটকানো হবে, সেখানেই তারা প্রতিবাদের নতুন কেন্দ্র তৈরি করবে। নেতাদের আটক করার পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে সিজেপি যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল ছিল তাদের প্রধান দাবি।
কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার একাধিক পথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীতে কয়েক হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারী ও সংগঠকদের আটক করার ঘটনাও ঘটেছে।
অভিজিৎ দীপকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরই আটক হন। অন্যান্য সিজেপি নেতা ও সমর্থকদেরও বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভে যোগ দিতে চাওয়া বামপন্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কয়েকজনকেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান সীমিত করা এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব কড়াকড়ির মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল রাস্তায় নেমে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
নেহা বোরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়ে সমর্থকদের দিল্লি হাটে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।
দিল্লি হাট এলাকায়ও পরে পুলিশি ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সিজেপির দাবি, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন অংশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এপি
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






