নেপালে ফের প্রকৃতির তাণ্ডব: ভয়াবহ পাহাড়ধস, বন্যা ও তুষারধস—হিমলুংয়ে ৪ মৃত্যু, নিখোঁজ ১২
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধস দেখা দিয়েছে। মুস্তাংয়ের লেতে এলাকায় পাহাড়ের বিশাল অংশ কালী গণ্ডকী নদীতে ধসে পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে মানাংয়ের হিমলুং হিমালে তুষারধসে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২ জন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্যা ও ভূমিধসে বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে আবারও একসঙ্গে বন্যা, পাহাড়ধস ও তুষারধসের মতো একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা সামনে এসেছে।
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস, নদীর পানি বৃদ্ধি ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মধ্যে মুস্তাং জেলার লেতে এলাকায় পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ কালী গণ্ডকী নদীর দিকে ধসে পড়েছে।
অন্যদিকে মানাং জেলার ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমালে তুষারধসের ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১২ জন শ্রমিক ও গাইড এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
### কয়েক সেকেন্ডে পাহাড়ের বড় অংশ নদীতে
মুস্তাংয়ের লেতে এলাকার কাছে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে কালী গণ্ডকী নদীর দিকে নেমে আসে।
পাহাড়ের মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচে নেমে আসার সময় আশপাশের এলাকা ধুলায় ঢেকে যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, রোববারের বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে লেতে এলাকায় ওই পাহাড়ধস ঘটে। ধ্বংসাবশেষ কিছু সময়ের জন্য কালী গণ্ডকীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলেও পরে পানি নিজের পথ তৈরি করে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

এ ঘটনাকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হিমবাহ ধস বা Glacial Lake Outburst Flood (GLOF) হিসেবে নিশ্চিত করার সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান প্রকাশিত তথ্যে ঘটনাটি পাহাড়ধস হিসেবেই রিপোর্ট করা হচ্ছে।
### হিমলুংয়ে চার মরদেহ উদ্ধার
এদিকে মানাংয়ের হিমলুং হিমালে রোববার তুষারধসের পর নিখোঁজদের সন্ধানে সোমবারও উদ্ধার অভিযান চলে।
Nepal National Mountain Guide Association (NNMGA) জানিয়েছে, সোমবার বীরেন্দ্র গুরুং ও ঘনশ্যাম রাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রোববার ছাবি ভোতে ও পাসাং ভোটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
### ১৬ জন চাপা পড়েছিলেন
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তুষারধসে শুরুতে মোট ১৬ জন expedition support staff নিখোঁজ হন।
তাদের মধ্যে ১৪ জন kitchen staff এবং দুজন climbing guide ছিলেন।
NNMGA-এর উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ mountain guide-দেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
### ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার
Associated Press জানিয়েছে, হিমলুংয়ের তুষারধসের পর অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে তুষারে চাপা পড়া নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া ও পাহাড়ের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে উদ্ধারকারীরা আরও কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।
### বৃষ্টি-বন্যায় বহু সড়ক বন্ধ
হিমলুংয়ের তুষারধসের পাশাপাশি চার দিনের টানা বৃষ্টিতে নেপালের বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
Nepal Police-এর তথ্য অনুযায়ী, রাসুওয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রেপালাঞ্চক, চিতওয়ান, মানাং, বাগলুং, রোলপা, কালিকোট, গুলমি, মিয়াগদি, মুস্তাং, হুমলা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি, পালপা, ললিতপুর, লামজুং, তানাহুন ও পার্বতসহ বিভিন্ন জেলার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
### রাসুওয়ায় পাসাং লামু মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত
রাসুওয়ায় ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোতে নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাসাং লামু মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
পুলিশ বিকল্প এক লেনের কাঁচা সড়ক ব্যবহার করে কাঠমান্ডু থেকে স্যাফ্রুবেসি যাওয়ার সুযোগ রাখলেও রাতের নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ যান চলাচলে বিধিনিষেধ দিয়েছে।
### নারায়ণগড়-মুগলিনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ধস
চিতওয়ানের নারায়ণগড়-মুগলিন সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত রয়েছে।
ধাদিংয়ের পৃথ্বী মহাসড়ক এবং কাভ্রেপালাঞ্চকের বিপি হাইওয়ের বিভিন্ন অংশেও ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।
মানাংয়ের সঙ্গে লামজুংয়ের সড়ক যোগাযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
### মুস্তাংয়ের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন
মুস্তাং ও মিয়াগদির দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও বন্যা ও পাহাড়ধসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জোমসোম-কোরালা সড়কের বিভিন্ন অংশে ভূমিধস ও পাথর পড়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বেনি-জোমসোম সড়কের কিছু অংশ এবং কালী গণ্ডকী করিডোরও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুওয়া ও ভোটেকোশি অঞ্চলে যে ভয়াবহ দুর্যোগ হয়েছিল, সেটির সঙ্গে বর্তমান মুস্তাংয়ের পাহাড়ধসকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
আগস্টের ঘটনায় Reuters-সহ আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো হিমবাহের বরফ, পাথর ও মাটির বড় ধরনের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কথা জানিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান লেতে-মুস্তাং ঘটনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সেই ধরনের হিমবাহ ধসের সরকারি নিশ্চয়তা নেই।
মানাংয়ের হিমলুংয়ের ঘটনাটি একটি avalanche বা তুষারধস এবং মুস্তাংয়ের ঘটনাটি বর্তমানে landslide বা পাহাড়ধস হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

### পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে DHM
নেপালের Department of Hydrology and Meteorology (DHM) দেশের আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করছে।
টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার মাটি দুর্বল হয়ে নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উদ্ধারকারী সংস্থা ও পুলিশ দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






