প্রধানমন্ত্রীকে সফরে নিতে দিল্লির নানামুখী তৎপরতা
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চলতি মাসেই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে নিতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে দিল্লি। তবে সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: সকাল ১০:০৪
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে নিতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে দিল্লি। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী সপরিবারে ভারত সফর করুন—এমন আগ্রহের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকাকে জানাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত দণ্ডিত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজনকে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে গেলে তা ফলপ্রসূ হবে বলেও ঢাকাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে।
তবে দিল্লির তৎপরতায় সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তড়িঘড়ি ভারত সফরে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আগ্রহ দেখালেও এটিকে দেশটির বাংলাদেশ নীতির মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ভারতকে পিছিয়ে দিতে পারে—এ কারণেই দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর অগ্রগতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জুলাই বিপ্লবের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারত সম্পর্কের নতুন যাত্রার কথা বললেও বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে।
গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যও সরকার সমর্থন করে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ নতুন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন শুরু করেছে। ভারতের ভেতরেও বাংলাদেশনীতি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়; অন্য অংশ বাংলাদেশকে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মধ্যে রাখার পক্ষে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের বিষয়ে ভারত সরকারের আগ্রহের কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লি ফিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ দিল্লিকেই তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দণ্ডিত শেখ হাসিনা, হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এবং ভারতে অবস্থানরত অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান মনে করেন, তড়িঘড়ি সফরের পরিবর্তে বাংলাদেশের জাতীয় ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন, শুধু আশ্বাস নয়; পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে ভারতের দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের আগে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি। কেবল মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে নয়, বাস্তব অগ্রগতি ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশ তৈরি হলেই সফরটি দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক ফল আনতে পারে।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #তারেক রহমান
- #নরেন্দ্র মোদি
- #দিল্লি সফর
- #বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
- #দীনেশ ত্রিবেদী
- #শামা ওবায়েদ ইসলাম
- #কূটনীতি
- #রাজনীতি
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






