শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়োগ
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে পরীক্ষা না দিয়েও নিয়োগ পাওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে স্বজনকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১১:৪৫ পিএম
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরীক্ষা না দেওয়া ব্যক্তিকে সুযোগ এবং প্রভাব খাটিয়ে স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটগাঁও ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের সৌরভ সমাজপতি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সোমেশ সমাজপতির ছেলে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরোধিতা করে ‘নো ভোট’-এর পক্ষে রাজনৈতিক মাঠেও তাকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তাকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই পদে নিয়োগ পাওয়া উজ্জ্বল চৌধুরী, জুয়েল দাশ, তুহিন মিয়া ও মাসুকুল ইসলামও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ দাসের ভাতিজার মেয়ে সিম্পন রানী দাসকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকলেও সুপারভাইজার পদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে পাম্পি রানী দাসকে। নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, দুই বছর আগে দিরাই উপজেলায় তার বিয়ে হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারী পদের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রাসেল রাহাতও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া পরীক্ষা না দিয়েও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাসুকুল ইসলামকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
আটগাঁও ইউনিয়নের নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী সুবেল আহমেদ শুভ বলেন, ভাইভা পরীক্ষার সময় মাসুকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না। বোর্ডের সদস্যরা তাকে ডেকেও পাননি। অথচ চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় তার নাম এসেছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও অনেক প্রার্থী নিয়োগ পাননি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ‘নো ভোট’-এর পক্ষে সক্রিয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তালিকা পুনরায় যাচাই করে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আরেক পরীক্ষার্থী হাজিরুল ইসলাম বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই এমন নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তিনি নিয়োগে অনিয়মের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, তার জানা মতে পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাই করে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #শাল্লা
- #সুনামগঞ্জ
- #ফ্যামিলি কার্ড
- #ছাত্রলীগ
- #তথ্য সংগ্রহকারী
- #নিয়োগ
- #স্বজনপ্রীতি
- #রাজনীতি
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






