৩ হাজার টাকায় বড় ভাইকে খুন করালেন আপন ভাই
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মো. ফারুক শেখ হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট ভাই মো. বারেক শেখ ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই ভাড়াটে খুনিকে দিয়ে বড় ভাইকে হত্যা করান। এ ঘটনায় বারেকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৮:৪৬ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিজ শয়নকক্ষে মো. ফারুক শেখ (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ফারুকের আপন ছোট ভাই মো. বারেক শেখ (৪৪) তিন হাজার টাকার বিনিময়ে দুই ব্যক্তিকে ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বারেক শেখসহ তার দুই সহযোগী মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং মো. রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে গোয়ালন্দঘাট থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত ফারুক ও অভিযুক্ত বারেকের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ফারুকের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারেক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, বারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের মাকে মারধর করার ক্ষোভ এবং বড় ভাই ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি একাই আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এ জন্য দৌলতদিয়া এলাকার পরিচিত আলমগীর ও রুবেলকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে বারেক তার সংগ্রহে থাকা দুটি ধারালো দা আলমগীর ও রুবেলের হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে সরে যান বলে পুলিশের দাবি।
পরে ফারুক ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্ত দুজন ঘরে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বারেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দৌলতদিয়ার হোসেন মণ্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে রক্তমাখা দুটি দা, গেঞ্জি, প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর বারেক শেখ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের ভাই হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন।
পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধেই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






