পরকীয়ার বিরোধে আশুলিয়ায় দম্পতি ও নবজাতক হত্যা, রহস্য উদ্ঘাটন পিবিআইয়ের
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতি ও তাদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী সংঘর্ষের জেরেই নাজমা খাতুন, তার স্বামী আলমগীর কবির এবং তাদের নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। গ্রেফতার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ভেরিক্সা নিউজ সাভার প্রতিনিধি
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতি ও তাদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআইয়ের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
বুধবার পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এম. মোর্শেদ এ তথ্য জানান।
নিহতরা হলেন নাজমা খাতুন, তার স্বামী আলমগীর কবির এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান।
নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। আলমগীর এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রি করতেন।
### তালাবদ্ধ ঘর থেকে মিলেছিল তিন মরদেহ
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার একটি বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং গলিত অবস্থায় তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি শুরুতে সূত্রহীন থাকায় পিবিআইও তদন্তে নামে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে ঘটনার একটি সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা বেরিয়ে এসেছে।
### ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের দাবি
পিবিআই বলছে, গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানার কাজ শেষে নাজমা ও তার স্বামী বাসায় ফেরেন।
তদন্ত সংস্থাটির দাবি, নাজমার সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তির একটি সম্পর্ক ছিল—এমন সন্দেহ বা অভিযোগের জেরে আলমগীর ওই ব্যক্তিকে নিজের বাসায় ডেকে আনেন।
সেখানে তাকে মারধর ও সতর্ক করার একপর্যায়ে আলমগীরের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংস্থাটির দাবি, পরিস্থিতি একসময় সহিংসতায় রূপ নেয় এবং নাজমা ও আলমগীর নিহত হন।
এ সময় তাদের নবজাতক সন্তানও মারা যায় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তবে পিবিআই এখনো গ্রেফতার ব্যক্তির নাম, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বা পদ্ধতি এবং নবজাতকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
### বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালানোর দাবি
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
কয়েক দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
এরপরই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়।
### আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, গ্রেফতার ব্যক্তির সঙ্গে নিহতদের সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার ব্যক্তি আদালতে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কি না, সে তথ্যও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে পিবিআই ঘটনার একটি প্রাথমিক ব্যাখ্যা সামনে আনলেও গ্রেফতার ব্যক্তির অপরাধের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে আদালত।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






