উদ্বৃত্ত কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
খুলনার ডুমুরিয়ায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৯:০৩ পিএম
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিল ডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বড় খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
এর মধ্যে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা খাল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় গত ১৩ মে এবং মেয়াদ শেষ হয় ৩০ জুন।
এ সময়ের মধ্যে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার খনন করা হয়, যা মোট কাজের ৭২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা।
অন্যদিকে, সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী খালের ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ ছিল।
এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২৪ এপ্রিল এবং মেয়াদ শেষ হয় ৩০ জুন।
প্রকল্পটিতে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৬ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। খননকাজ শেষ হলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। আর্থিক হিসাবে কাজের অগ্রগতি ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুই প্রকল্পের অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি কম থাকলেও কাগজপত্রে ৭১ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া খালের পানি অপসারণ না করে ভাসমান ভেকু দিয়ে পাড়ের মাটি তুলে আবার খালের পাড়ে রাখায় বর্ষা মৌসুমে সেই মাটি ধসে খাল পুনরায় ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, অতিবৃষ্টি ও মাটির প্রকৃতিগত সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, ৩০ জুনের পর কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফটো গ্যালারি

- #ডুমুরিয়া
- #খুলনা
- #সবিতা সরকার
- #ইউএনও
- #সরকারি কোষাগার
- #খাল পুনঃখনন
- #বিল ডাকাতিয়া
- #প্রকল্পের অর্থ
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






