গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি যাওয়া লেমুরের সন্ধান গুজরাতে, ভান্তারায় থাকার তথ্য সিআইডির
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ২০২৫ সালে চুরি হওয়া ডোরাকাটা লেজের দুই লেমুর ভারতের গুজরাতের বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ভান্তারায় পৌঁছেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে প্রাণী দুটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় জেনেটিক তথ্যের ঘাটতি। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভেরিক্সা নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি ডোরাকাটা লেজের লেমুর ভারতে পাচারের পর গুজরাতের বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ভান্তারায় পৌঁছেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিআইডি ও গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ভান্তারা ভারতের গুজরাতে অবস্থিত একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, যা আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বলে সিআইডির এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন।
### ২০২৫ সালে চুরি হয়েছিল তিনটি লেমুর

ডোরাকাটা লেজের বা ‘রিং-টেইলড’ লেমুর বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। এদের প্রাকৃতিক আবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কার দ্বীপে।
২০১৮ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পশু-পাখির একটি অবৈধ চালান আটক করা হলে ম্যাকাও, ময়ূরসহ একজোড়া লেমুরও উদ্ধার করা হয়।
পরে লেমুর দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সেখানে তারা আরও দুটি বাচ্চার জন্ম দেয়।
২০২২ সালের শুরুতে একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে অবশিষ্ট তিনটি লেমুর একসঙ্গে চুরি হয়ে যায়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা একজন কর্মীর সহায়তায় একটি চক্র ওই চুরির ঘটনা ঘটায়।
### একজন উদ্ধার, দুটিকে ভারতে পাচারের তথ্য
চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে ঢাকার একটি বাসা থেকে চুরি যাওয়া তিনটি লেমুরের মধ্যে একটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সিআইডির এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেন যে বাকি দুই লেমুর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রাণী দুটি ভারতে নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া লেমুরটিকে পুনরায় গাজীপুর সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে কয়েক মাস আগে সেটিও মারা যায়।
সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা, দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
### ভান্তারায় কীভাবে শনাক্ত করল সিআইডি
ভারতে পাচারের তথ্য পাওয়ার পর থেকেই দুই লেমুরের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান চালায় সিআইডি।
সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন যে বিভিন্ন হাত ঘুরে প্রাণী দুটি গুজরাতের ভান্তারায় পৌঁছেছে।
তথ্যটি যাচাই করতে সিআইডি ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করে।
এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভান্তারার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে একাধিক ডোরাকাটা লেজের লেমুর দেখা যায়।
সিআইডি ওই ভিডিও সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদেরও দেখায়।
প্রাণীগুলোকে দীর্ঘদিন কাছ থেকে দেখেছেন এমন কর্মকর্তারা ভিডিও দেখে বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুরও সেখানে থাকতে পারে বলে শনাক্ত করেন।
তবে শুধু দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এ পরিচয় আইনগতভাবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
### ফেরত আনার পথে ডিএনএ প্রমাণ বড় বাধা

লেমুর দুটি বাংলাদেশে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ।
কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে প্রাণীগুলোর মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্ত তথ্য-প্রমাণ চাইলে দেখা যায়, সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে চুরি হওয়া দুই লেমুরের আগের কোনো জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কোনো প্রাণী বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে কি না তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণের কার্যকর উপায় হলো আগের জেনেটিক প্রোফাইলের সঙ্গে নতুন পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেখা।
তবে গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া দুই লেমুরের এমন কোনো ডিএনএ রেকর্ড তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল না।
### আত্মীয় লেমুরের নমুনায় আশার আলো
এরপর একই পরিবারের আরেকটি লেমুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের আশা, ওই জেনেটিক প্রোফাইল পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতে থাকা সংশ্লিষ্ট লেমুরগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।
সিআইডিও আশা করছে, রক্তের সম্পর্ক থাকার কারণে জেনেটিক মিল পাওয়া গেলে প্রাণী দুটির বাংলাদেশি উৎস প্রমাণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেমুর দুটি বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, তা অনিশ্চিত।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ভান্তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






