লাইভ
বাংলাদেশ৬৮ দিন আগে

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করা হয়।

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ
শেয়ার করুন

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

প্রকাশ: ৪:৪৪ পিএম

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করা হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ওই দুই যুবক মাদক সেবন করছিলেন। গণপতি চক্রবর্তী এতে বাধা দিলে তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় এবং অভিযুক্তদের কেউ শনাক্ত করতে না পারে, সে আশঙ্কায় বাড়ির অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী শব্দ শুনে ওপরে আসার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে পৌঁছালে তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে তাদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।

এরপর অভিযুক্তরা নিচতলায় গিয়ে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়মকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হয়ে গেলে অভিযুক্তরা ওই বাড়িতেই অবস্থান করেন। তারা গোসল করেন, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খান এবং পরে ইয়াবা সেবন করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

এদিকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গণপতি চক্রবর্তী বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি রাতে স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখে পাশের বাসার ভেতর দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন।

পরে ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থা দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান প্রার্থী চক্রবর্তী ও প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তী মাস্টার্স পাস করেছিলেন। আর প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও সম্ভাব্য অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফটো গ্যালারি

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ — 1
শেয়ার করুন

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন

সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।

ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।

সম্পর্কিত খবর

চাঁদপুরে সম্পত্তির বিরোধে গোরস্থানে দাফনে বাধা, শেষ আশ্রয় হলো বাড়ির আঙিনা
বাংলাদেশ

চাঁদপুরে সম্পত্তির বিরোধে গোরস্থানে দাফনে বাধা, শেষ আশ্রয় হলো বাড়ির আঙিনা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৮৫ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম মিয়াজীর মরদেহ গোরস্থানে দাফন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও বিরোধের সমাধান করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত স্বজনরা তাঁকে বাড়ির আঙিনায় দাফন করেন।

৫ দিন আগে

‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, লেবাসধারী চরিত্রহীনদের বিরুদ্ধে’: শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি
বাংলাদেশ

‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, লেবাসধারী চরিত্রহীনদের বিরুদ্ধে’: শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে মাদরাসাবিরোধী অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তাঁর দাবি, মেয়ের জন্য বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগের মুখে পড়েছেন তিনি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন রুমি।

৬ দিন আগে

রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অবরোধ প্রত্যাহার, শান্ত সাজেক—পর্যটকশূন্য পাহাড়ি জনপদ
বাংলাদেশ

রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অবরোধ প্রত্যাহার, শান্ত সাজেক—পর্যটকশূন্য পাহাড়ি জনপদ

সাজেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে ডাকা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির আধাবেলা অবরোধ শনিবার দুপুরে শেষ হয়েছে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও দুর্গম এলাকায় যান চলাচল ও সাপ্তাহিক বাজার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সাজেকের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞায় পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকশূন্য রয়েছে।

৬ দিন আগে

সৌদি আকাশপথে অনিশ্চয়তা: ঢাকার ১৩৫ ফ্লাইটে বিঘ্ন, বিপাকে ২০,৬৭২ যাত্রী
বাংলাদেশ

সৌদি আকাশপথে অনিশ্চয়তা: ঢাকার ১৩৫ ফ্লাইটে বিঘ্ন, বিপাকে ২০,৬৭২ যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে চলমান পরিচালনাগত বিধিনিষেধের প্রভাব আরও বেড়েছে বাংলাদেশের যাত্রীদের ওপর। ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৩৫টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার পর থেকেই দেশটির বিমান চলাচলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

৮ দিন আগে

অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বাংলাদেশ

অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ঘোষিত ব্যবস্থায় ৩৩৮টি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া।

১৫ দিন আগে

হুথি হামলার প্রভাবে ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, ঢাকায় ভোগান্তিতে ১৪ হাজারের বেশি যাত্রী
বাংলাদেশ

হুথি হামলার প্রভাবে ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, ঢাকায় ভোগান্তিতে ১৪ হাজারের বেশি যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে বুধবার পর্যন্ত ৮৯টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব ফ্লাইটে মোট ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রীর ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।

১৬ দিন আগে

ভেরিক্সা নিউজ
এই মুহূর্তে ০ জন