তাজমিন হত্যা: কাদায় মাথা চেপে মৃত্যু নিশ্চিত, চট্টগ্রামে ধরা সিএনজিচালক
মিনহাজুল ইসলাম, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, নির্জন স্থানে নিয়ে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে এবং কাদার মধ্যে মাথা চেপে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ভেরিক্সা নিউজ কুমিল্লা প্রতিনিধি
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য, রেসকোর্সের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে নেওয়ার কথা বলে তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল তাজমিন।
সুমনের সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন তাকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।
এরপর সুমন সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরমুখী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরিচিত জায়গায় পৌঁছে ভয় পেয়ে তাজমিন অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাকে আটকাতে গেলে তাজমিন চিৎকার শুরু করে।
পুলিশের দাবি, তখন সুমন নিজের গামছা তাজমিনের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাকে উপুড় করে কাদার মধ্যে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছেন। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে না পরে ঘটেছে এবং যৌন নির্যাতনের প্রকৃত ধরন কী ছিল, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে তার আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন সুমন। পরে অন্য একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান।
পুলিশের ভাষ্য, সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে তাজমিনের আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো স্থান থেকে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের ঝোপে লুকানো তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে তাজমিনের মরদেহ পাওয়া যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তার বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।
তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। তাদের স্থায়ী বাড়ি যশোরে।
ঘটনার পর তাজমিনের বাবা লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করছে।
ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশের ধারণা একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও দায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






