সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ পিএম
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত তথ্যে হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে যোগাযোগ এবং দুটি পেনড্রাইভকে ঘিরে নতুন অনুসন্ধানের কথা উঠে এসেছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত তথ্যে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিন্ন কয়েকটি ঘটনার তদন্ত ও কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পান তদন্তকারীরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তৎকালীন র্যাব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।
এই যোগাযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়ার একপর্যায়ে দুটি পেনড্রাইভের তথ্যও সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাগর-রুনি হত্যার দুই দিন পর জিয়াউল আহসানের একজন তৎকালীন বিশ্বস্ত সহযোগী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি পেনড্রাইভ সংগ্রহ করেছিলেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেনড্রাইভ দুটিতে ২০০৯ সালের পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টারির উপাদান ছিল।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হত্যার আগে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ করেছিলেন।
এ কারণেই ওই ডিভাইসগুলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়েছিল, তা নতুন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জিয়াউল আহসানের তৎকালীন ওই সহযোগীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেনড্রাইভ সংগ্রহ ও হস্তান্তরসংক্রান্ত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও রোববার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্লু তাদের হাতে এসেছে।
তিনি জানিয়েছেন, তদন্তে দেশের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সাগর-রুনি হত্যা মামলার মূল তদন্ত করছে না। অন্য মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য আরও যাচাই করা হচ্ছে এবং তা নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হলে বর্তমান তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ কারণে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীকে ঘিরে সামনে আসা নাম-নির্দিষ্ট তথ্য এবং ট্রাইব্যুনালের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুটি বিষয়ই এখন চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নিহত হন।
সাগর তখন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।
দুই মাসের বেশি সময়েও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার র্যাবকে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় র্যাবের তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।
পরে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বর্তমানে ওই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলার তদন্ত চলছে।
সর্বশেষ ২৭ আগস্টও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। এরপর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৯ বার পিছিয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্যের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় নতুন করে পাওয়া তথ্যগুলো এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর বিষয়ে সামনে আসা তথ্য এখনো তদন্ত ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দায় নির্ধারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব তথ্যকে তদন্তে উঠে আসা যোগসূত্র হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ট্রাইব্যুনালের একাধিক কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






