মাধবপুরে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ, ৯০ হাজার টাকায় সালিশি ‘মীমাংসা’ নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে গ্রাম্য সালিশে ৯০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বলছে, নির্ধারিত অর্থের মধ্যে তারা এখন পর্যন্ত পেয়েছে ২০ হাজার টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ২:৩৪ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ আইনের আশ্রয়ে না নিয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট দুপুরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে কিশোরীটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আন্দিউড়া ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান বলে পরিবারের দাবি। পরে কিশোরীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি সালিশে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার একজন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয় বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি।
তবে পরিবার জানিয়েছে, নির্ধারিত ৯০ হাজার টাকার মধ্যে তারা এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ হাজার টাকা পেয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা আর্থিক অসচ্ছলতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি মামলা পরিচালনার সামর্থ্য তাদের নেই। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের পথে যেতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্য আবেদুর রহমানও সালিশ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1} :contentReference[oaicite:2]{index=2}
তবে এ ধরনের গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ স্থানীয় সালিশে নিষ্পত্তি করা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবী মোজাম্মেল হক রাসেলের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ আইনি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয় এবং এমন অভিযোগ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত দিয়েছেন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের কথা তিনিও জানতে পেরেছেন।
একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন সহিংসতার অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়েছে কি না এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






