গুরুদাসপুরে দুই শিশুর জানাজা ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, মামলা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
দুই শিশুর জানাজাকে ঘিরে গুরুদাসপুরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় পুলিশের বর্ণনা ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে বড় পরিসরে মামলা করেছে পুলিশ।

ভেরিক্সা নিউজ, নাটোর প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১১:২৫ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল ও জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ৮ থেকে ৯ বছর বয়সী লাম ও ফারহান নামে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।
খবর পেয়ে অপমৃত্যু মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব ঘটনাস্থলে যান।
প্রথমে নিহত লামের বাড়িতে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
পরে ফারহানের মরদেহ চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে তার মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
এরপর লামের মরদেহও ওই মাঠে নেওয়া হয় এবং সেখানে দুই শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ অভিভাবকদের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর এবং বিষয়টি থানায় নথিভুক্ত করার প্রস্তাব দেন এসআই আবুল বাশার।
এরপর উপস্থিত লোকজনের একাংশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পুলিশের।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব কাছের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একদল লোক দোকানটি ঘিরে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করতে থাকেন।
পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ সদস্যরা দোকান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এক ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে এসআই আবুল বাশারের মাথায় আঘাত করেন।
এরপর আরও কয়েকজন বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড নিয়ে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব আহত হন।
পরে তারা স্থানীয় একটি মাদরাসায় আশ্রয় নিলে সেখানেও তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা থেকে এসআই এমদাদুল হকসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
তবে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য পুলিশের এজাহারের বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
স্থানীয়দের দাবি, দুই শিশুর জানাজার সময় পুলিশ সদস্যরা কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহের সুরতহাল করার উদ্যোগ নিলে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য মারধরের শিকার হন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
ঘটনার পর এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবকে গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী এসআই এমদাদুল হক জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালন শেষে থানায় ফিরে তিনি এজাহার জমা দেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ঘটনাটি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য—দুই পক্ষের বর্ণনায় পার্থক্য থাকায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






