তিন দশকেও হয়নি সেতু, জীর্ণ বাঁশের সাঁকোই ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জের পাখিমারা খালের ওপর তিন দশকেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পাঁচ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে কৃষকদের এখনো ভরসা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠের ভাসমান সাঁকো।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১১:৪৯ এএম
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। তিন দশক ধরে কাদা, নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান বাঁশ-কাঠের সাঁকো পার হয়ে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, এসব গ্রামে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়।
কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এ অঞ্চল থেকে পূরণ হয় বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তখন অনেক ক্ষেত্রেই নৌকায় করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হয়।
কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে তিন দশকেও একটি স্থায়ী গার্ডার সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, পাখিমারায় প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে কৃষকেরা বর্তমানে নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান বাঁশ ও কাঠের সেতুর ওপর নির্ভর করছেন।
নিজেদের উদ্যোগ ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় কয়েক দফা সাঁকোটি মেরামত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, সেতুটির নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার পথে এবং প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে।
এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিন দশকের অপেক্ষার পর পরিকল্পিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ গ্রামের মানুষের যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ফটো গ্যালারি

ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






