আড়াই বছরের আব্দুল্লাহকে হত্যার কথা ১৬৪ ধারায় স্বীকার মায়ের: পুলিশ
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আড়াই বছরের শিশু আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তার মা বৃষ্টি আক্তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুরুতে শিশুটি বিছানা থেকে পড়ে মারা গেছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টিকেও ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে সামনে এনেছেন।

ভেরিক্সা নিউজ মির্জাপুর প্রতিনিধি
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আড়াই বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তার মা বৃষ্টি আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির মৃত্যুর পর প্রথমে বৃষ্টি আক্তার দাবি করেছিলেন, বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু শিশুটির মৃত্যু ঘিরে শুরু থেকেই পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে শিশুটির বাবা ওয়াসীম মিয়া বাদী হয়ে স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ মামলার পর বৃষ্টি আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে বৃষ্টি আক্তার নিজের শিশু সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
নিহত আব্দুল্লাহ মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের খাগুটিয়া গ্রামের ওয়াসীম মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট বিকেলে আড়াই বছরের আব্দুল্লাহ মায়ের সঙ্গে ঘরের ভেতরে ছিল।
একপর্যায়ে বৃষ্টি আক্তার স্বজনদের জানান, শিশুটি বিছানা থেকে পড়ে জ্ঞান হারিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কিন্তু শিশুটির মৃত্যুর পর ঘটনাটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বৃষ্টি আক্তারের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল।
শিশুটির দাদা-দাদীর দাবি, ওই পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।
তারা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগও করেছেন।
তবে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি পরিবারের দাবি; ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে আব্দুল্লাহর বাবা ওয়াসীম মিয়া সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনার দিন ধারণ করা একটি ভিডিওতে বৃষ্টি আক্তারকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার কথা অস্বীকার করতে শোনা যায়।
সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, আব্দুল্লাহ হঠাৎ বিছানা থেকে পড়ে মারা গেছে।
পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।
পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
হত্যা মামলা দায়েরের পর বৃষ্টি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য হলো—আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এখন মামলার তদন্তে হত্যার পেছনের পূর্ণ কারণ, পারিবারিক বিরোধের ভূমিকা এবং পরিবারের উত্থাপিত কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






