পাবনায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালক আটক, ক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
মিনহাজুল ইসলাম, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
পাবনার সদর উপজেলায় আবাসিক মহিলা মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু ইউসুফকে আটক করেছে পুলিশ। এক সহপাঠীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে মাদরাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ পাবনা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
এক শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাবনার সদর উপজেলার একটি আবাসিক মহিলা মাদরাসায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককে পুলিশ আটক করেছে। অন্যদিকে ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মাদরাসার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকায় অবস্থিত নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদরাসায়। আটক পরিচালকের নাম আবু ইউসুফ (৪৫)। তিনি আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুবের ছেলে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় শিশুটির এক সহপাঠী বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাইরে গিয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবু ইউসুফকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার ইসায় প্রামাণিকের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবু ইউসুফ আবাসিক মহিলা মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদরাসা হিসেবে ব্যবহৃত ভাড়া বাড়িটিতে ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন।
অভিযুক্ত পরিচালককে পুলিশ আটক করার পরও মাদরাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফল কিংবা মাদরাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পাওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালককে আটক করা হলেও অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






