ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

স্টাফ রিপোর্টার, ভেরিক্সা নিউজ
রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিট
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রোববার, ৯ আগস্ট প্রসিকিউশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
মামলার প্রসিকিউটর শাইখ মাহদি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করছে। এর ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হলে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
সাইফুর রহমানকে এরই মধ্যে আটক করে বিমানবাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। প্রসিকিউটর শাইখ মাহদি বলেছেন, তাকে বাহিনীর হেফাজতে রাখার খবরের সত্যতা প্রসিকিউশন পায়নি। তবে এর আগে কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে বিশেষ সামরিক পুলিশ তাকে আটক করে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ সেলে রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
২০১২ সালে ঘটনার সময় সাইফুর রহমান বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার পদে থেকে র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও কথিত হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
একই মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।
বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #ইলিয়াস আলী
- #সাইফুর রহমান
- #গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- #আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
- #গুমের অভিযোগ
- #বিএনপি
- #বিমানবাহিনী
- #জিয়াউল আহসান
- #মানবতাবিরোধী অপরাধ
- #আইন আদালত
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






