‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, লেবাসধারী চরিত্রহীনদের বিরুদ্ধে’: শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি
আল আমিন খান, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে মাদরাসাবিরোধী অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তাঁর দাবি, মেয়ের জন্য বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগের মুখে পড়েছেন তিনি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন রুমি।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিচার চাইতে গিয়ে নিজেই নানা অভিযোগের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন গাজীপুরের টঙ্গীর বাসিন্দা শাহজালাল রুমি। তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়েকে একটি আবাসিক মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইসলাম কিংবা মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অবস্থান নেই। তাঁর প্রতিবাদ ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুমি। এ সময় তাঁর বন্ধু ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজ উপস্থিত ছিলেন।
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসায় তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদরাসায় ভাঙচুর এবং প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও সামনে আসে।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে রুমি বলেন, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। মাদরাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা প্রতিষ্ঠান দখলের কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জনতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমির দাবি, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। সেটির ক্ষতিপূরণ দিতেও তিনি রাজি আছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনাস্থলে আসার আগেই গ্লাসটি ভাঙে এবং এ বিষয়ে ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।
অন্যদিকে মাদরাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির বাবা। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদরাসায় এত পরিমাণ নগদ অর্থ রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রুমি।
তাঁর অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে তিন দিন আগেই মাদরাসার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান রুমি। সেই আশ্বাসে আস্থা রেখে মেয়েকে আবার মাদরাসায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী অভিযোগ সামনে আসার পর সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
রুমির দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানাকে বার্তা পাঠিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে কথিত ওই বার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটিকে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন বাবা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ফিরে ঘটনাটি কাউকে জানালে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে প্রথম তিন দিন শিশুটি ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। পরে মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান রুমি। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যেন প্রভাব না ফেলে, সে আহ্বান জানান তিনি।
মাদরাসা শিক্ষার প্রতি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমি বলেন, দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর কোনো বিদ্বেষ নেই। তবে ধর্মীয় পোশাক বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। রুমি বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।
একই সঙ্গে মেয়ের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ জানার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন উল্লেখ করে রুমি বলেন, একজন বাবার পক্ষে এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে রাখা অত্যন্ত কঠিন।
শিশুটির নিরাপত্তা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তবে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন, প্রাণনাশের হুমকি, মাদরাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






