সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদনসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতিও দিয়েছেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১২:২৮ পিএম
পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনসহ মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি এ আদেশ দেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ ছিল, এ সময় তার দুই বছর বয়সী শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
পরে ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশ ওই নারী ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনার সঙ্গে মামলার কোনো আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়নি।
বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামে এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্তে উঠে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষীদের সাক্ষ্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা।
তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার নথিপত্র, পুলিশ প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে রায় দিয়েছেন।
তার মতে, আদালতের এ সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা দিয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, তার মক্কেলদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং আদালতে তারা আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফটো গ্যালারি

- #পঞ্চগড়
- #সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা
- #মিথ্যা মামলা
- #ডিএনএ পরীক্ষা
- #নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল
- #আদালত
- #পাঁচ আসামি
- #অভিযোগকারী
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






