তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ সূত্রে নতুন অগ্রগতি, ছয়জনকে ঘিরে তদন্ত
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ প্রতিবেদন ঘিরে নতুন তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ছয়জনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘ এক দশক পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে থাকা ডিএনএ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জৈব নমুনা বিশ্লেষণে পাঁচ ব্যক্তির শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ছয়জনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।
এ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে চার সাবেক সেনাসদস্য ও একজন বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জুলাই আদালত নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তারা হলেন তনুর বন্ধু কুমিল্লার রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তদন্তকারীরা ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
ডিএনএ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে গত এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তকারীদের দাবি, এরপর মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে চলে যান।
আদালত জাহিদুজ্জামান জাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে চলে গেছেন। তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে এবং দেশে তার সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়েছে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ঘটনার শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হতে পারে বলেও মনে করেন তনুর বাবা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তনু টিউশনি করতে একটি বাসায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় পরিবারটি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
পিবিআইয়ের বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত চলছে। তিনি এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত আরও দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে নতুন করে দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৭ সালের মে মাসে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নতুন ডিএনএ তথ্য এবং সন্দেহভাজনদের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে—এমন প্রত্যাশা তনুর পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #সোহাগী জাহান তনু
- #তনু হত্যা মামলা
- #কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ
- #কুমিল্লা সেনানিবাস
- #পিবিআই
- #ডিএনএ প্রতিবেদন
- #হত্যা মামলার তদন্ত
- #ইন্টারপোল রেড নোটিশ
- #Sohagi Jahan Tonu
- #Tonu Murder Case
- #Cumilla
- #PBI
- #DNA Evidence
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






