রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন হত্যা: দুই আসামি শনাক্ত, দ্রুত চার্জশিটের কথা পুলিশের
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে মহানগর পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন আর বড় ধরনের ধোঁয়াশা নেই এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ভেরিক্সা নিউজ রংপুর প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে শনাক্ত করার পর হত্যাকাণ্ড ঘিরে থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, চারজনের মরদেহ উদ্ধারের সময়ই গোপন সূত্রে দুই সন্দেহভাজনের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলামত নষ্ট হয়নি।
পুলিশের তথ্যমতে, গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের টানা দুই দিন ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ২২ আগস্ট রাতে স্বজনরা রংপুর নগরীর মাছোয়াপাড়ায় তাদের বাড়িতে যান।
বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
স্বজনরা অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করার পর একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল শোবার ঘরের খাটের নিচে।
পুলিশের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় সিদ্ধার্থ দাস ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিষয়টি বুঝতে পেরে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস তাকে পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
পরে রাত ৩টার কিছু পর গোয়েন্দা পুলিশ বিনয় দাসের কাছে গিয়ে সিদ্ধার্থের অবস্থান জানতে চায়।
বাবার ডাকে সিদ্ধার্থ বেরিয়ে এলে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে অপর সন্দেহভাজন মুগ্ধ দাসকে খুঁজতে অভিযান শুরু করে।
মুগ্ধের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, তিনি দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকায় অবস্থান করছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শ্মশানের কেয়ারটেকারের ঘরের সামনে থেকে মুগ্ধকে আটক করেন।
শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ মোহন্ত জানিয়েছেন, অভিযানের আগে মুগ্ধ সেখানে এসে পানি চেয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে তাকে নিয়ে যান।
### জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
মামলায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা কারাগারে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এর আগে দুই আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ।
তবে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকা এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেন।
রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম সোমবার দুই দিন ধরে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
### দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার কথা পুলিশের
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হচ্ছে না।
একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তদন্তে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
গত ২৩ আগস্ট ভোরে রংপুর নগরীর মাছোয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটনের দাবি করলেও প্রকাশিত বক্তব্যে সেই মোটিভের বিস্তারিত কারণ বা উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে তদন্তের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যেই হত্যার পেছনের পূর্ণ কারণ আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






