ধর্ষণের পর শিশুর সন্তান প্রসব, নেত্রকোনার সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এবং তার ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামির পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পাওয়ার পর চার্জশিট দেওয়া হয়।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ৯:১৪ পিএম
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।
চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে।
তার ভাষ্য, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পাওয়া গেছে।
এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি।
অন্যদিকে গত ১৭ মে প্রধান আসামি আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ বছর বয়সী ওই শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং এর ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।
রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন।
এরপর গত ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তপর্ব শেষ হয়েছে। এখন আদালত অভিযোগপত্র পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে নেবে।
ফটো গ্যালারি

- #নেত্রকোনা
- #মদন
- #মাদ্রাসাশিক্ষক
- #শিশু ধর্ষণ মামলা
- #চার্জশিট
- #ডিএনএ পরীক্ষা
- #সিআইডি
- #নারী ও শিশু নির্যাতন
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






