ভাঙছে না বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’, বদলাচ্ছে শুধু মুখ
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
চট্টগ্রামের অপরাধজগতে বড় সাজ্জাদের কথিত নেটওয়ার্কে একের পর এক শীর্ষ সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করছে পুলিশ। ছোট সাজ্জাদের পর ডেভিড ইমন, এরপর বোরহান উদ্দিন এবং সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বে রায়হান আলমের নাম উঠে আসায় ‘চেইন অব কমান্ড’ ভাঙা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভেরিক্সা নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ২:২১ পিএম
চট্টগ্রামের অপরাধজগতে বড় সাজ্জাদের কথিত ‘চেইন অব কমান্ড’ ভাঙার বদলে একের পর এক বদলাচ্ছে নেতৃত্বের মুখ। শীর্ষ সহযোগীদের কেউ গ্রেপ্তার বা কারাগারে গেলে তার জায়গায় পরের সারির আরেকজন উঠে আসছে বলে মনে করছে পুলিশ।
ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর সামনে আসেন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। গত জুলাইয়ের শেষদিকে ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন আলোচনায় এসেছে বোরহান উদ্দিনের নাম। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন রায়হান আলমও।
পুলিশের ভাষ্য, বোরহান বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বাকলিয়ার জোড়া খুনের মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ইমন গ্রেপ্তারের পর বড় সাজ্জাদের হয়ে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধচক্রের কার্যক্রমে বোরহান কতটা সক্রিয় হচ্ছেন, সেদিকে নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের দাবি, ইমন গ্রেপ্তারের পর বোরহান এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়ে ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে চাঁদার দাবিতে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। আরেক ব্যবসায়ীকে চাঁদা দেওয়ার জন্য এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে রায়হান আলমের নাম। তাদের ধারণা, বোরহান গ্রেপ্তার হলে পরবর্তী নেতৃত্বে রায়হান সামনে আসতে পারেন।
ফলে একের পর এক শীর্ষ সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও বড় সাজ্জাদের কথিত চক্রে নেতৃত্বের বিকল্প তৈরি থাকার বিষয়টিই এখন পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কয়েক বছর এবং এর পরের কয়েক মাস চট্টগ্রামের অপরাধজগতের একটি অংশে ছোট সাজ্জাদের প্রভাব ছিল বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।
২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। এরপর তার জায়গায় ডেভিড ইমন ও রায়হান আলম সামনে আসেন। পুলিশের দাবি, ইমন ও রায়হান বড় সাজ্জাদের হয়ে নগর ও জেলার পৃথক এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের কৃষক পরিবারের সন্তান ইমন আগে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অক্সিজেন এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তার সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে।
এরপর একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম সামনে আসে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যার ঘটনায় ইমনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৮টি মামলার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত জুলাইয়ের শেষদিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকায় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, তারা ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইমনের কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড পাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোডে একটি প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে বখতিয়ার হোসেন মানিক ও মো. আবদুল্লাহ নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহত বখতিয়ারের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ, তার স্ত্রী, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং বড় সাজ্জাদের প্রভাব ধরে রাখার মতো কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর রায়হান, বোরহান ও ইমন বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, রায়হানই ইমনকে বড় সাজ্জাদের দলে টেনে আনেন।
চট্টগ্রামের অপরাধজগতে এই নেতৃত্ব বদলের ইতিহাসও নতুন নয় বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় নূরনবী ম্যাক্সনকে ঘিরে এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পরে ঢাকাইয়া আকবর, সরোয়ার হোসেন বাবলা এবং এরপর ছোট সাজ্জাদের নাম সামনে আসে।
ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন ও রায়হান নেতৃত্বে আসেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইমন গ্রেপ্তারের পর বোরহানের নাম সামনে আসা একই কাঠামোর ধারাবাহিকতা।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদের কথিত বাহিনীতে কয়েকটি স্তরে সদস্যরা কাজ করেন। ফলে একজন শীর্ষ সহযোগী গ্রেপ্তার হলে পরের স্তরের কেউ দ্রুত তার জায়গা নেওয়ার সুযোগ পায়।
এ কারণেই কেবল কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেই পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা সূত্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বোরহানের পর সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন রায়হান আলম। ইমনের সঙ্গে নগর ও জেলার অপরাধ কর্মকাণ্ড ভাগ করে পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ একাধিক মামলায় রায়হানের নাম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের দাবি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক শীর্ষ সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, বাহিনীর সদস্যদের আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না এবং পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফটো গ্যালারি

- #বড় সাজ্জাদ
- #ছোট সাজ্জাদ
- #ডেভিড ইমন
- #বোরহান উদ্দিন
- #রায়হান আলম
- #চট্টগ্রাম
- #চাঁদাবাজি
- #অপরাধচক্র
- #Verixa News
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






