অর্থাভাবে তিন দিন আটকে ছিল মরদেহ, শেষযাত্রায় পাশে কায়রা ফাউন্ডেশন
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ও প্রয়োজনীয় খরচের অভাবে তিন দিন ধরে সম্পন্ন হচ্ছিল না এক ব্যক্তির ময়নাতদন্ত ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় কায়রা ফাউন্ডেশন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভেরিক্সা নিউজ
রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচের অভাবে তিন দিন ধরে একটি হাসপাতালে পড়ে ছিল এক ব্যক্তির মরদেহ। স্বজনেরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হওয়ায় ময়নাতদন্ত ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল না। পরে খবর পেয়ে কায়রা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কায়রা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ও সাধারণ সম্পাদক প্রত্যয় মাহমুদ তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রত্যয় মাহমুদ ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দিন আগে আত্মহত্যায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর গাজীপুর থেকে মরদেহ নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। এই খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকায় স্বজনেরা ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছিলেন না।
তিনি জানান, হাসপাতালে সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন উপস্থিত থাকলেও মরদেহটি যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় মরদেহে পচন ধরে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।
প্রতয় মাহমুদ বলেন, “আমার প্রায় নয় বছরের স্বেচ্ছাসেবী জীবনে এটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক ও নাড়া দেওয়ার মতো একটি ঘটনা। মরদেহে পচন ধরার পর আমরা খবর পাই। এরপর নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।”
তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তির শেষকৃত্য ও মরদেহ পরিবহনের খরচ বহনের জন্য পুরো এলাকাবাসীর কাছ থেকে মাত্র ১ হাজার ২৭০ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল।
ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে মানুষের উদাসীনতার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কায়রা ফাউন্ডেশনের এই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পরও অর্থের অভাবে তার মরদেহ যদি এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকে, তাহলে সমাজের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
কায়রা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যু অনিবার্য হলেও একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার শেষযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা সমাজের সবার মানবিক দায়িত্ব।
ঘটনার শেষে প্রত্যয় মাহমুদ বলেন, “আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্দর ও সম্মানজনক মৃত্যুর ফয়সালা দান করুন। আমিন।”
উল্লেখ্য, ঘটনাটির তথ্য কায়রা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ও সাধারণ সম্পাদক প্রত্যয় মাহমুদ প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফটো গ্যালারি

- #ভেরিক্সা নিউজ
- #Verixa News
- #কায়রা ফাউন্ডেশন
- #Kayra Foundation
- #প্রতয় মাহমুদ
- #মানবিক সহায়তা
- #স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
- #মরদেহ পরিবহন
- #অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া
- #মানবিকতা
- #গাজীপুর
- #সামাজিক দায়িত্ব
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






