বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের ৩ দিন পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
আল আমিন খান, সাব এডিটরপ্রতিবেদকের বৃত্তান্ত দেখুনপ্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
সাতক্ষীরার তালায় বাবাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে মারধরের তিন দিন পর এক কলেজছাত্রীর মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভেরিক্সা নিউজ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরার তালায় বাবাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে মারধরের তিন দিন পর এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেননি; তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখ কলেজে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এ নিয়ে প্রতিবেশী আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে তার তর্কও হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত ২ অক্টোবর দুপুরে ছাত্রীর বাবা লিটন শেখকে ধরে নিয়ে আমজেত শেখের বাড়ির উঠানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
এ সময় রকি শেখ, শোয়েব মালী, ইমন শেখ, আমজেত শেখ, ইমরান শেখ ও আকলিমা খাতুন মারধরে অংশ নেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
বাবাকে ছাড়াতে গেলে ওই কলেজছাত্রী ও তার মাকেও মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।
লিটন শেখ জানান, ঘটনার দিনই তিনি তালা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তার দাবি, পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন।
এর তিন দিন পর সোমবার সন্ধ্যার আগে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় মেয়েটিকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লিটন শেখ বলেন, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার দাবি, পুলিশ আগের অভিযোগের পর ব্যবস্থা নিলে মেয়ের এমন পরিণতি হতো না। মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহত ছাত্রীর মামা সাদ্দাম হোসেনও মৃত্যুর ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, ঝুলন্ত অবস্থায় ছাত্রীর পা মাটিতে ছিল এবং গলায় প্রত্যাশিত ধরনের দাগ তিনি দেখেননি। এছাড়া ছাত্রীর মোবাইল ফোনটিও ঘরে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পরিবারের এসব দাবি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে।
তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল, এর মধ্যেই ওই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সাতক্ষীরার মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—ময়নাতদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






