খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, প্রতিবেশীর ঘরে মিলেছিল সাবার মরদেহ—শান্তনার যাবজ্জীবন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ঝিনাইদহের পবহাটি গ্রামের সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় প্রতিবেশী শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিবেশীর ঘর থেকে সাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ভেরিক্সা নিউজ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশীর ঘর থেকেই উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
আলোচিত সেই হত্যা মামলায় প্রতিবেশী শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঝিনাইদহের আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তনা খাতুন ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী।
### খেলতে বেরিয়ে আর ফেরেনি সাবা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় দিনভর খোঁজাখুঁজি চালালেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
### রাত সাড়ে ৯টায় প্রতিবেশীর ঘরে মরদেহ
একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘর থেকে শিশু সাবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
### এক মাসের মধ্যেই চার্জশিট
মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মনোজ কুমার ঘোষ।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হয়।
### সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে যাবজ্জীবন
মামলাটিতে শান্তনা খাতুনই ছিলেন একমাত্র আসামি।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এরপর আদালত শান্তনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
ভেরিক্সা নিউজ ফলো করুন
সবার আগে খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন।
ফেসবুক পেজের সর্বশেষ পোস্ট — স্ক্রল করে দেখুন। নতুন পোস্ট দিলে এখানে নিজে থেকেই আসবে।






